
শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমায় ফের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন দুই যুবক। মঙ্গলবার দুপুরে শান্তিরবাজার ট্রাইজংশন এলাকায় দ্রুতগতির একটি টাটা টিগোর গাড়ির ধাক্কায় রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন দুই বাইক আরোহী। আহতদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগরতলা থেকে শান্তিরবাজারমুখী টিআর ০১বিডাব্লিউ ০৪৯৮ নম্বরের টাটা টিগোর গাড়িটি ট্রাইজংশন এলাকায় দেবীপুরগামী রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মোটরবাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইক দুটি হল টিআর০৮এইচ৬৭১৩ নম্বরের পালসার এবং টিআর০৮এফ৫৩৬২ নম্বরের স্প্লেন্ডার।
সংঘর্ষের তীব্রতায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন কলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা দীনেশ দাস (৩০) এবং মাইছড়া এলাকার বাসিন্দা বাপী দাস (২৪)। স্থানীয় মানুষ দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং চালকের অসাবধানতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গাড়ির নথি ঘেঁটে জানা গেছে, সেটি প্রদীপ পাল নামে এক চিকিৎসকের নামে নিবন্ধিত। যদিও দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দুর্ঘঘটনার পর শান্তিরবাজার থানার পুলিশ ফরেন্সিক দলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তবে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, দুর্ঘটনার পর পুলিশি সহযোগিতাতেই চালক পালাতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— এত বড় দুর্ঘটনার পর প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ