
আগরতলা, ১২ মে (হি.স.) : বিজেপিতে যোগদানের জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন ৯ বনমালীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার আগরতলায় নিজের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিজেপিতে যোগদানের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই ধরনের খবরকে তিনি ‘হলুদ সাংবাদিকতার তৈরি গল্প’ বলে কটাক্ষ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে গোপাল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা প্রকাশিত হয়। সেই খবর প্রকাশের পর থেকেই কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থক ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চান। এই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করতেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
গোপাল রায় বলেন, “আমি কংগ্রেসেই আছি এবং কংগ্রেসেই থাকব। বিজেপিতে যাওয়ার কোনও প্রসঙ্গই নেই। কিছু সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়েছে। এই ধরনের ইয়েলো জার্নালিজম আমার একেবারেই পছন্দ নয়।”
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যে ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ প্রকাশ করেছিল, তার অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া হলেও ভোটের পর সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকে আর নজর দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোপাল রায় আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেসব নতুন প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, সেগুলির সুবিধা ত্রিপুরার মানুষও পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের আদলে বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প ত্রিপুরাতেও চালুর দাবি জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা দিন দিন বাড়ছে। অথচ এসব সমস্যার সমাধানে রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের প্রচার যতই থাকুক, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর বিজেপিতে যোগদানের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটেছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁর বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ