শ্রম কোডের কপি পুড়িয়ে সিটু-র বিক্ষোভ, নয়ডা-সহ দেশজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি
আগরতলা, ১২ মে (হি.স.) : কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোড বাতিল, শ্রমিক নেতাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করল সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিটু) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি।
আগরতলায় সিটু-র বিক্ষোভ


আগরতলা, ১২ মে (হি.স.) : কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোড বাতিল, শ্রমিক নেতাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করল সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিটু) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। এদিন শ্রম দফতরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতীকীভাবে শ্রম কোডের প্রতিলিপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সিটুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্র সরকার দেশে নতুন শ্রম কোড কার্যকর করেছে। এই শ্রম কোডের বিরুদ্ধে এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবিতে নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা-সহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন জোরদার হয়েছে। আন্দোলন দমনে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইতিমধ্যেই কয়েক শত শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ১,৮০০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী ‘দাবি দিবস’ পালন করে সিটু-সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। এরই অংশ হিসেবে আগরতলায় সিটুর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে মিছিলটি শ্রম দফতরের সামনে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিটুর রাজ্য নেতা সমর চক্রবর্তী, শঙ্কর প্রসাদ দত্ত, পাঞ্চালী ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলন স্তব্ধ করতে নয়ডা-সহ বিভিন্ন এলাকায় সিটু এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, এক হাজারেরও বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সিটুর রাজ্য নেতা সমর চক্রবর্তী বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে দমন করতে প্রশাসন অগণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন করছে। অবিলম্বে গ্রেফতার শ্রমিক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে, সমস্ত মিথ্যা এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং শ্রমিকবিরোধী শ্রম কোড বাতিল করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক অধিকারের সুরক্ষায় দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বক্তারা কেন্দ্র সরকারের শ্রমনীতি শ্রমিক স্বার্থবিরোধী বলে অভিযোগ তুলে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande