
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নীট (এনইইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ বাড়ছে, তখন তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করল ধর্মনগর জেলা কংগ্রেস। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ তুলে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
ধর্মনগর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি দ্বিগবিজয় চক্রবর্তী, ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কেবল কান্তি নন্দী-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল প্রতিবাদী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং দলীয় পতাকা। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা নীট পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে নীট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়মের কারণে তাঁদের পরিশ্রম ও স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এতে শুধু পরীক্ষার্থীদের মানসিক আঘাতই লাগছে না, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে।
জেলা সভাপতি দ্বিগবিজয় চক্রবর্তী বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়েছে।”
প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য কেবল কান্তি নন্দী বলেন, “যে কোনও মূল্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরীক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে।”
প্রতিবাদকারীরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করারও দাবি ওঠে।
ধর্মনগর জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্র সমাজের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় তাঁরা আগামী দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ