রাস্তা সংস্কারের দাবিতে কমলপুরে অবরোধ
কমলপুর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : ধলাই জেলার সুরমা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কমলপুর থেকে মরাছড়া হয়ে দুর্গাচৌমুহনি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল দশা ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার করুণ অবস্থা,
রাস্তা অবরোধ


কমলপুর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : ধলাই জেলার সুরমা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কমলপুর থেকে মরাছড়া হয়ে দুর্গাচৌমুহনি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল দশা ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার করুণ অবস্থা, সংকীর্ণতা এবং সংস্কারের নামে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে মঙ্গলবার ছোটসুরমা এলাকায় পথ অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল হন শতাধিক গ্রামবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই সড়ক দিয়ে দু’টি যানবাহন অনায়াসে যাতায়াত করতে পারলেও বর্তমানে রাস্তার দুই পাশ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে সামান্য অসাবধানতাতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা সংস্কারের নামে দায়সারা কাজ করেছে ঠিকাদারি সংস্থা। কোথাও কোথাও রাস্তার ধারে মাটি সরে গিয়ে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে, আবার অনেক অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজার হাজার মানুষ। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স— সকলকেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে, ফলে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বহুবার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং নিম্নমানের কাজের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জানান, এই সড়ক এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ছোটসুরমা এলাকায় গ্রামবাসীরা রাস্তার উপর বসে শান্তিপূর্ণ অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জনৈক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত কাজ শুরু হোক।”

গ্রামবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। এদিনের বিক্ষোভে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। ফলে পুরো এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande