হোম থেকে পালিয়ে গেল তিন নাবালিকা, নির্যাতনের অভিযোগে চাঞ্চল্য
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সেখানে থাকা নাবালিকাদের জীবনযাত্রা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠল ত্রিপুরায়। গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার কাঁকড়াবন থানাধীন শালগড়া এলাকার ‘আলোর দিশারী’ চিল্ড্রেন হোম থেকে সোমবার
তিন নাবালিকা উদ্ধার


উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সেখানে থাকা নাবালিকাদের জীবনযাত্রা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠল ত্রিপুরায়। গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার কাঁকড়াবন থানাধীন শালগড়া এলাকার ‘আলোর দিশারী’ চিল্ড্রেন হোম থেকে সোমবার গভীর রাতে পালিয়ে যায় তিন নাবালিকা। দীর্ঘ প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তাঁরা মঙ্গলবার দুপুরে পৌঁছে যায় সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের চেছড়িমাই এলাকায়। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ সুযোগ বুঝে হোমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে তিন নাবালিকা বেরিয়ে পড়ে। সারা রাত অন্ধকার রাস্তায় হেঁটে, ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে অবসন্ন অবস্থায় তাঁরা মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্রামগঞ্জের চেছড়িমাই এলাকার একটি বাড়িতে জল ও খাবারের জন্য আশ্রয় চায়।

অচেনা তিন কিশোরীর এমন অবস্থায় উপস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, চিল্ড্রেন হোমে তাঁদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না বলেও তাঁরা জানায়। এই অভিযোগ শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়রা বিশ্রামগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তায় নেয়। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় ‘আলোর দিশারী’ চিল্ড্রেন হোম কর্তৃপক্ষকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হোমের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশি উপস্থিতিতে নাবালিকাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।

তবে এ সময় চিল্ড্রেন হোম কর্তৃপক্ষকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, যদি শিশুদের ওপর নির্যাতন না হয়ে থাকে, তবে কেন তাঁরা রাতের অন্ধকারে এত দূর পালিয়ে আসবে? বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ঘটনার পর শিশু কল্যাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কী কারণে তিন নাবালিকা হোম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হল, সেখানে সত্যিই কোনও নির্যাতন চলছিল কি না, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এত বড় ফাঁক রইল কীভাবে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতর।

এই ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande