‘আবার আমরা বিশ্বকাপে আসছি’ এই বার্তা দিয়েছে অস্ট্রিয়া
১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল'' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে থাকছে ছোট দলগুলিকে নিয়ে। কোন দল কেমন, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস থাকছে। আজকের পর্বে অস্ট্রিয়া। কলকাতা, ১৫মে(হি
‘আবার আমরা বিশ্বকাপে আসছি’ এই বার্তা দিয়েছে অস্ট্রিয়া


১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে থাকছে ছোট দলগুলিকে নিয়ে। কোন দল কেমন, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস থাকছে। আজকের পর্বে অস্ট্রিয়া।

কলকাতা, ১৫মে(হি.স.): ১৯৯৮ সালের পর টানা ২৮ বছর বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি আল্পস-কন্যাদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরছে তারা। এনিয়ে উন্মাদনায় মেতেছে গোটা দেশ।

অস্ট্রিয়ার এই আমূল পরিবর্তনের নেপথ্য নায়কের নাম রালফ রাংনিক। যিনি দলের কোচ। ‘প্রেসিং’ ফুটবলের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড ২০২২ সালে অস্ট্রিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই দেশের ফুটবলের রুপটাই বদলে দিয়েছেন। তিনি দলটিকে শিখিয়েছেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবের কোচ হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে রাংনিক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। এরফলে তিনি দেশটির ফুটবল-সমর্থকদের কাছে সম্মান পাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পথটা অস্ট্রিয়ার জন্য ছিল খুবই রোমাঞ্চকর। উয়েফা বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপে তারা ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রথম পাঁচ ম্যাচের সব কটিতেই জিতে তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে গ্রুপের একটি ম্যাচে সান মারিনোর বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয়টি ছিল অস্ট্রিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে চার গোল করে কিংবদন্তি টনি পোলস্টারকে টপকে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন মার্কো আর্নাউটোভিচ। তবে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করতে তাদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কারণ রোমানিয়ার কাছে হেরে কিছুটা বিপদে পড়ে তারা। শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মাইকেল গ্রেগরিচের ৭৮ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক সমতাসূচক গোলটি অস্ট্রিয়াকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়।

অস্ট্রিয়া দলের বর্তমান দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে তৈরি। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা রক্ষণ সামলান আর মাঝমাঠে ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার ও মার্সেল সাবিৎজার প্রতিপক্ষের বক্সে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।বিশেষ করে বাউমগার্টনারের সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা দলটির আক্রমণের মূল চাবিকাঠি। তবে বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমে রাংনিকের উচ্চ গতির ‘গেগেনপ্রেসিং’ ফুটবল কতটা সফল হবে সেটাই এখন দেখার।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘জে’তে। সেখানে তাদের লড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। কোন দলকেই তারা ভয় পাচ্ছে না। খেলোয়াড়দের হাতে থাকা প্রতীকী ‘গোল্ডেন কি-চেইন’ এখন শুধু একটাই প্রতিধ্বনি তুলছে—‘বিশ্বকাপ, আমরা অস্ট্রিয়া, আবার আসছি!’

এ দলের তারকা: ডেভিড আলাবা:

অস্ট্রিয়া দলের মূল ভরসা ডেভিড আলাবা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জেতা এই ডিফেন্ডার তাঁর বহুমুখী খেলার শৈলী ও নিখুঁত পাসের জন্য সেরাদের একজন হয়ে উঠেছেন। রাংনিকের উচ্চগতির ফুটবল-দর্শনে আলাবার রক্ষণ সামলানোর ক্ষমতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বকাপে দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক নজরে অস্ট্রিয়া:

**র্যাঙ্কিং: ২৪

**অংশ নিয়েছে ৮ বার :

১৯৩৪ ইতালি

১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড (সেরা সাফল্য: তৃতীয় স্থান অর্জন)

১৯৫৮ সুইডেন

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা

১৯৮২ স্পেন

১৯৯০ ইতালি

১৯৯৮ ফ্রান্স

২০২৬কানাডা-মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র

**সর্বোচ্চ সাফল্য: তৃতীয় (১৯৫৪)

**বিশ্বকাপে খেলেছে :

ম্যাচ ২৯,জয় ১২, ড্র ৪,

হার ১৩।

এবার গ্রুপ পর্বে খেলা:

**১৭ জুন, জর্ডান, সান ফ্রান্সিসকো, সকাল ১০টা

**২২ জুন, আর্জেন্টিনা, ডালাস, রাত ১১টা

**২৮ জুন, আলজেরিয়া, কানসাস সিটি, সকাল ৮টা। (ভারতীয় সময়)

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি




 

 rajesh pande