বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ও গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বে জোর ব্রিকসের
নয়াদিল্লি, ১৫ মে (হি.স.) : ১৪ ও ১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির গুরুত্ব এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিল সদস্য দেশগুলি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি
বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ও গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বে জোর ব্রিকসের


নয়াদিল্লি, ১৫ মে (হি.স.) : ১৪ ও ১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির গুরুত্ব এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিল সদস্য দেশগুলি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই আয়োজিত এই বৈঠকের শেষে কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না হলেও চেয়ারম্যানের বিবৃতি ও ফলাফল সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরা জানান, গ্লোবাল সাউথের জন্য ব্রিকস এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পক্ষেও মত প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি, গাজায় যুদ্ধবিরতি, উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের জন্য ভারতের নির্ধারিত থিম— “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ”-এর প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, কূটনীতি ও সংলাপের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। গাজা, লেবানন, সুদান, সিরিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সাহায্য ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষে সওয়াল করা হয়। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জন্য দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও রাষ্ট্রসংঘে পূর্ণ সদস্যপদের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সব ধরনের জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানায় ব্রিকস দেশগুলি। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে হওয়া জঙ্গি হামলারও কড়া নিন্দা করা হয়, যেখানে ২৬ জন নিহত হন। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি অর্থায়ন ও নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande