
নয়াদিল্লি, ১৫ মে (হি.স.): ভোজশালা চত্বরের বিতর্কিত অংশকে মন্দির বলেই ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। স্বীকৃতি দেওয়া হল দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে। শুক্রবার এই মামলার রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ। মুসলিম পক্ষের মামলাকারীদের অন্য স্থানে উপাসনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপাসনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ভিন্ন স্থান চেয়ে নিতে মুসলিম পক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিচারপতি। এর প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি, বরিষ্ঠ আইনজীবী অলোক কুমার ভোজশালা মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনা, সত্য এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে, ধারের ভোজশালা একটি হিন্দু মন্দির। আদালত বলেছে, ভোজশালায় পুজোর রীতি বরাবরই হিন্দু মন্দিরের মতোই ছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে হিন্দুরা এখন ভোজশালায় পুজো চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পেয়েছেন। মুসলমানদেরও সরকারের কাছে মসজিদের জন্য জমি চাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, ভোজশালা শুধু দেবী বাগদেবীর পূজার স্থান হিসেবেই থাকবে না, বরং প্রাচীনকালের মতোই সংস্কৃত ও ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এই কাজ সমাজ এবং সরকারকে যৌথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এই স্থানের শক্তি সারা বিশ্বে আধ্যাত্মিক আলো ছড়িয়ে দেবে।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে। আদালত এই বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য এএসআই-কে নিযুক্ত করেছিল। অলোক কুমার আরও বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে, সকলের বক্তব্য শুনে এবং ভবনটি পরিদর্শন করার পরেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে। উপলব্ধ ঐতিহাসিক সাহিত্য, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং হিন্দু পুজোর ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে, হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে ভোজশালা ছিল দেবী সরস্বতীর একটি প্রাচীন মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি স্থানের বিষয় নয়, বরং এটি ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং সভ্যতার পরিচয়ের সাথে যুক্ত।
লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা দেবী সরস্বতীর মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন বিবেচনা করার জন্য আদালতের পর্যবেক্ষণকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মূর্তিটি ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মার প্রতীক এবং এটিকে এর মূল স্থান ভোজশালায় পুনরায় স্থাপন করা উচিত। অলোক কুমার আরও বলেন, এই বিষয়টি কারও পরাজয় বা বিজয়ের বিষয় নয়। আমাদের সকলকে আদালতের আদেশ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে। সকল পক্ষকে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও সম্প্রদায়ের পরাজয় নয়, বরং ঐতিহাসিক সত্য ও সাংস্কৃতিক ন্যায়বিচারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাষ্ট্রীয় প্রবক্তা বিনোদ বনসল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ