(লিড) সিকিমে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া
নামচি (সিকিম), ১৫ মে (হি.স.): সিকিম সফরের দ্বিতীয় দিনে একগুচ্ছ কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনায় ব্যস্ত সময় কাটালেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। শুক্রবার নামচি জেলায় শিক্ষা, পর্যটন, চা উৎপা
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া


নামচি (সিকিম), ১৫ মে (হি.স.): সিকিম সফরের দ্বিতীয় দিনে একগুচ্ছ কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনায় ব্যস্ত সময় কাটালেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। শুক্রবার নামচি জেলায় শিক্ষা, পর্যটন, চা উৎপাদন এবং ক্রীড়া পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন তিনি। এই সফরে মন্ত্রী কেবল প্রশাসনিক পর্যালোচনাই করেননি, বরং চা শ্রমিক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী ও উঠতি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিন মন্ত্রী নামচি জেলার তারকু-তে নির্মীয়মাণ 'কাঞ্চনজঙ্ঘা সিকিম স্টেট ইউনিভার্সিটি' পরিদর্শন করেন। এটি সিকিমের প্রথম রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, যা ২৮ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠছে। উত্তর-পূর্ব পরিষদের মাধ্যমে এই প্রকল্পের জন্য ৯.৬১ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে ১৫০০-র বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। মন্ত্রী এদিন প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাম্পাস চত্বরের কাজের গতি খতিয়ে দেখেন।

এরপর তিনি বিখ্যাত তিমি চা বাগান ও প্রসেসিং ইউনিট পরিদর্শন করেন। সেখানে চা উৎপাদন ও প্যাকেজিং পদ্ধতি দেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সিকিমের চায়ের রফতানি সম্ভাবনা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আধিকারিকরা মন্ত্রীকে জানান যে, পরিবেশ রক্ষায় কয়লার বদলে এলপিজি ভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে ঝুঁকছে এই বাগান। পাশাপাশি তিমি চায়ের জন্য 'জিআই ট্যাগ' -এর সুপারিশও করা হয়। এখানেও মন্ত্রীকে নারী চা শ্রমিকদের সঙ্গে সাবলীল নেপালি ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়।

পর্যটন ক্ষেত্রে জোয়ার আনতে নামচি-তিমি-রাভাংলা পর্যটন সার্কিট এবং চেমচে-তে অবস্থিত 'ইন্ডিয়ান হিমালয়ান সেন্টার ফর অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড ইকো ট্যুরিজম' পরিদর্শন করেন সিন্ধিয়া। সেখানে রক ক্লাইম্বিং, আইস ক্লাইম্বিং, ট্রেকিং এবং স্কিইং-এর মতো রোমাঞ্চকর খেলাধূলার সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখেন তিনি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ডিভাইনে প্রকল্পের আওতায় ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ ভালেঢুঙ্গা স্কাইওয়াক প্রকল্পের পর্যালোচনা করেন তিনি। ৩২০০ ফুট উচ্চতায় ২৪০ মিটার দীর্ঘ এই গোলাকার কাঁচের স্কাইওয়াকটি তৈরি হলে এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম স্কাইওয়াক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিকেলে নামচির ভাইচুং স্টেডিয়ামে সিকিম প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ সংস্করণের সেমিফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষ্য হলো উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের ক্রীড়া হাবে পরিণত করা। 'ওয়ান স্পোর্ট, ওয়ান স্টেট' পদ্ধতির মাধ্যমে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলায় সিকিমের প্রতিভা তুলে আনার ওপর জোর দেন তিনি।

সিন্ধিয়ার এই সফর সিকিমের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande