(রাউন্ড আপ) আরজি কর ও জেল-দুর্নীতিতে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের: বিনীত গোয়েলসহ ৩ আইপিএস ও জেল সুপার সাসপেন্ড, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ
কলকাতা, ১৫ মে (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে শুক্রবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডে তদন্তে গাফিলতি এবং প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগ
মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ১৫ মে (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে শুক্রবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডে তদন্তে গাফিলতি এবং প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের অপরাধচক্র— এই দুই জোড়া ইস্যুতে শুক্রবার নবান্নে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি তিন প্রভাবশালী আইপিএস আধিকারিকসহ পাঁচ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেছেন।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের (অভয়া) নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা রাজ্য তথা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সেই ‘অভয়া’ কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলা হচ্ছে। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তদন্তে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল। তথ্যপ্রমাণ লোপাট থেকে শুরু করে এফআইআর দায়ের করতে দেরি করা এবং নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রতিটির বিচার হবে।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই তিন আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার নারী সমাজ ও মাতৃশক্তির সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। অভয়া কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ভূমিকা ছিল, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।”

কেবল আরজি কর নয়, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের অন্দরে বন্দিদের স্মার্টফোন ব্যবহার এবং অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্বতন শাসক শিবিরের মদতে জেলখানাগুলি ‘ঘুঘুর বাসায়’ পরিণত হয়েছিল, যেখানে অপরাধীরা জেলের ভেতরে বসেই বাইরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করত।

অভিযোগ পাওয়ামাত্রই রাজ্য পুলিশের ডিজি (কারা) এন. রমেশ বাবু এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ)-এর নেতৃত্বে গত রাতে এক বিশাল অভিযান চালানো হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চিরুনি তল্লাশিতে জেলের বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে মোট ২৩টি স্মার্টফোন উদ্ধার হয়েছে। এই বিশাল গাফিলতির দায়ে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট এন. কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘোড়াইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা বড়সড় ষড়যন্ত্রের হদিস পেতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার বিধানসভা থেকে সরাসরি নবান্নে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের সাপোর্ট বা চূড়ান্ত খামখেয়ালিপনার কারণেই জেলের ভেতর থেকে অপরাধীরা নেটওয়ার্ক চালাতে পেরেছে। আমরা এই অশুভ আঁতাত ভেঙে দিতে চাই। প্রশাসনকে মানুষের কাছে স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ জারি থাকবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক কম্পন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এবং অন্য আইপিএসদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধ বা তদন্তে গাফিলতির ক্ষেত্রে ‘প্রভাবশালী’ তকমা কাউকে রক্ষা করতে পারবে না।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আরজি কর মামলার বিচার প্রক্রিয়া এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে যে ক্ষোভ সাধারণ মানুষের মনে ছিল, আজকের এই পদক্ষেপ তাকে নতুন করে অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিনীত গোয়েলের মতো আধিকারিককে সাসপেন্ড করা এবং পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এল।

অন্যদিকে, জেলের ভেতর থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সংশোধনাগার ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছিল। সিআইডি তদন্তে আরও কোনো বড় নাম উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande