
তেল আভিভ, ১৬ মে (হি.স.) : ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংস্থা ট্যাবোর ইলেকট্রনিক্স মানববিহীন উড়ানযান বা ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক একটি ব্যবস্থা চালু করেছে।
সংস্থার দাবি, দ্রুত বদলে যাওয়া ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে পরীক্ষা ও মোতায়েনে সহায়তা করবে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা তাদের ‘প্রোটিয়াস’ সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড রেডিও প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরীক্ষাগারেই বাস্তব পরিস্থিতির মতো রেডিও সংকেত পরিবেশ তৈরি করে ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে পারবে।
ট্যাবোর ইলেকট্রনিক্স জানিয়েছে, কম খরচের ড্রোন এবং দ্রুত পরিবর্তিত যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে প্রচলিত হার্ডওয়্যারভিত্তিক পরীক্ষণ ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারছে না। নতুন এই সফটওয়্যারভিত্তিক প্রোগ্রামযোগ্য ব্যবস্থা সেই সমস্যার সমাধান করবে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই একাধিক ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি সংস্থার উন্নয়ন ও সমন্বয়মূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ হওয়ায় প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সংক্রান্ত সংস্থাগুলিও এর সুবিধা নিতে পারবে।
ট্যাবোর ইলেকট্রনিক্সের বক্তব্য, এই প্ল্যাটফর্মে প্রশস্ত ব্যান্ডের রেডিও সংকেত তৈরি ও গ্রহণের সক্ষমতার সঙ্গে বাস্তব সময়ে প্রোগ্রামযোগ্য সার্কিট, গভীর মেমোরি ক্ষমতা এবং উচ্চগতির তথ্য স্থানান্তর প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ‘ক্লোজড-লুপ’ পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রোন শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
সংস্থার মুখ্য পণ্য আধিকারিক মার্ক এলো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ড্রোন হুমকি অত্যন্ত দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধেও পরীক্ষা চালানোর সুযোগ দেবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ট্যাবোর ইলেকট্রনিক্স প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং উন্নত গবেষণা ক্ষেত্রে সংকেত তৈরি ও বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য