
নয়াদিল্লি, ১৭ মে (হি.স.) : মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য মিলল। রবিবার টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)-এর প্রথম কাটারহেড মুম্বইয়ের বিকরোলি শ্যাফটে নামানো হয়েছে। ১৩.৬ মিটার ব্যাস এবং প্রায় ৩৫০ টন ওজনের এই কাটারহেড টিবিএম-এর মূল সুরক্ষা কাঠামোর প্রাথমিক সংযোজন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচএসআরসিএল) জানিয়েছে, ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই টানেল অংশের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার অংশ নির্মাণে দুটি টিবিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঠাণে ক্রিকের নীচে নির্মীয়মাণ সাত কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল, যা দেশের প্রথম সমুদ্রতল রেল টানেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিটি টিবিএম-এর ওজন ৩ হাজার টনেরও বেশি এবং এগুলি দেশে রেল টানেল নির্মাণে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় মেশিন।
এনএইচএসআরসিএল-এর দাবি, ১৩.৬ মিটার ব্যাসের এই কাটারহেড এত বড় টানেল খননে সক্ষম, যেখানে হাই স্পিড রেল করিডরের আপ ও ডাউন—দুই লাইনই একই টানেলের মধ্যে দিয়ে চলবে। এর ৩৫০ টন ওজন প্রায় ২৫০টি মাঝারি আকারের এসইউভি গাড়ির সমান।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কাটারহেডটি পাঁচটি পৃথক অংশে নির্মাণস্থলে আনা হয়েছিল। পরে ১,৬০০ কিলোগ্রাম উচ্চ-নির্ভুল ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে সেগুলিকে জোড়া লাগানো হয়। এই ইউনিটে রয়েছে ৮৪টি কাটার ডিস্ক, ১২৪টি স্ক্র্যাপার এবং ১৬টি বাকেট লিপ, যা খনন এবং ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজকে আরও কার্যকর করে।
কাটার ডিস্ক মূলত শক্ত পাথর কাটার কাজ করে। স্ক্র্যাপার খননের পর মাটি ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে এবং বাকেট লিপ সেই ধ্বংসাবশেষ মেশিনের নির্দিষ্ট চেম্বারে পৌঁছে দেয়। পরে পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলি টানেলের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই টিবিএম বিকরোলি থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং মিঠি নদীর নীচ দিয়ে বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে নির্মীয়মাণ মুম্বই বুলেট ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছবে। সেখানেই মেশিনটি বের করে আনা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতে, টানেল নির্মাণের সময় নিরাপত্তা ও আশপাশের কাঠামোর উপর নজরদারির জন্য একাধিক আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সারফেস সেটেলমেন্ট পয়েন্ট, অপটিক্যাল ডিসপ্লেসমেন্ট সেন্সর, থ্রি-ডাইমেনশনাল টার্গেট সিস্টেম, মাইক্রো স্ট্রেন গেজ, কম্পন এবং ভূকম্পীয় তরঙ্গ পরিমাপক যন্ত্র।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য