
নয়াদিল্লি, ১৭ মে (হি.স.) : নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে সিবিএসই-র নম্বর বিভ্রাট এবং নতুন ভাষানীতি কার্যকর করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী । রবিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং এর জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক দায়ী।
রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, প্রথমে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২২ লক্ষ পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বহু ছাত্রছাত্রী অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতির ত্রুটির কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে কম নম্বর পেয়েছে, যার ফলে অনেকেই কলেজে ভর্তির যোগ্যতা হারিয়েছে।
এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এবার সিবিএসই নবম শ্রেণির লক্ষাধিক পড়ুয়াকে ১ জুলাই থেকে নতুন ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত শিক্ষক, পাঠ্যবই বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। এমনকি ১৪ বছরের পড়ুয়াদের হাতে ষষ্ঠ শ্রেণির বই ‘ট্রানজিশনাল ব্যবস্থা’ হিসেবে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী লেখেন, “তিনটি পরীক্ষা, তিনটি ভিন্ন বয়সের পড়ুয়া এবং একজনই মন্ত্রী। ধর্মেন্দ্র প্রধান একবার নয়, দেশের প্রতিটি বয়সের ছাত্রছাত্রীদের একসঙ্গে ব্যর্থ করেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রকের প্রতিটি নতুন ঘোষণা পড়ুয়াদের আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং একের পর এক ব্যর্থতার পরও কোনও জবাবদিহি নেই। তাঁর দাবি, “শিক্ষামন্ত্রক এখন দুর্যোগের দফতরে পরিণত হয়েছে।”
পোস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র উদ্দেশে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, “আপনি এবং আপনার মন্ত্রী যেসব লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন, অন্তত তাঁদের কাছে কি ক্ষমা চাইবেন?”
প্রসঙ্গত, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সুপারিশ মেনে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন নবম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি দেশীয় ভারতীয় ভাষা নির্বাচন করা আবশ্যিক। শনিবার সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নবম শ্রেণিতে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষার জন্য কোনও বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
১৫ মে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ-এসই) ২০২৩-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য