
খোয়াই (ত্রিপুরা), ১৭ মে (হি.স.) : একটি সাধারণ সন্ধ্যা। দিনের কাজ সেরে আপনজনের কাছে ফেরার তাড়া। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। খোয়াই জেলার চাম্পাহাওর থানার অন্তর্গত ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়কের নিবারণ বাড়ি এলাকায় রবিবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন বাইক আরোহী, গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সহযাত্রী।
মৃত ব্যক্তির নাম বিনোদ সিনহা (৪০)। তিনি খোয়াইয়ের গৌরনগর এলাকার বাসিন্দা। পরিবার-পরিজনের কাছে হাসিখুশি ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত বিনোদ সিনহার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ৭টা নাগাদ বিনোদ সিনহা তাঁর পরিচিত আনন্দ কুমার দত্তকে নিয়ে কমলপুর থেকে বাইকে করে খোয়াইয়ের দিকে ফিরছিলেন। ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়কের নিবারণ বাড়ি এলাকায় পৌঁছতেই উল্টোদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাতপরিচয় চারচাকার গাড়ি সজোরে তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষ ছিল এতটাই ভয়াবহ যে বাইকটি ছিটকে পড়ে যায় রাস্তার ওপর। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বিনোদ সিনহা। তাঁর সহযাত্রী আনন্দ কুমার দত্ত রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ছটফট করতে থাকেন।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে চাম্পাহাওর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনন্দ কুমার দত্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনা ঘটিয়েই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘাতক গাড়ি ও চালকের সন্ধানে ইতিমধ্যে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিনোদ সিনহার মৃত্যুসংবাদ তাঁর বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের মাতম শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা বারবার প্রশ্ন তুলছেন— “সন্ধ্যায় বেরিয়েছিলেন, আর ফিরলেন না কেন?” প্রতিবেশীদের চোখেও জল। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এক মুহূর্তের বেপরোয়া গতি একটি পরিবারের সব সুখ কেড়ে নিল।”
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আবারও সামনে এল জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গতির ভয়াবহতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০৮ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির গাড়ি ছুটে চলে, অথচ কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ