
কলকাতা, ১৮ মে (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। এই মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে উত্তরপ্রদেশের একটি টোল প্লাজা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সিবিআই সূত্রের খবর, সোমবার ধৃত ওই অভিযুক্ত দিল্লির পথ ধরে ভিন রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল, কিন্তু তার আগেই তাকে ধরে ফেলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, হেফাজতে নেওয়া ওই অভিযুক্তের নাম রাজকুমার সিং। সে উত্তরপ্রদেশের ব্যালিয়া জেলার বাসিন্দা। এর আগে, রবিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও সিবিআই-এর একটি যৌথ দল দিল্লির স্বরূপনগর এলাকার একটি বাড়িতে গোপন অভিযান চালিয়েছিল। তবে সেই সময় অভিযুক্ত রাজকুমার পুলিশি তৎপরতার আঁচ পেয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয়। এরপরই বিভিন্ন রাস্তায় নজরদারি বাড়িয়ে সোমবার তাকে পাকড়াও করা হয়।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দু'দিন পর, গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম এলাকায় নির্মমভাবে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার সময় তিনি নিজের গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। মোটরবাইকে চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। এই হামলায় চন্দ্রনাথবাবুর গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দু'জনকেই উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভোট-পরবর্তী সেই অত্যন্ত সংবেদনশীল আবহের মধ্যেই পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী।
হাইপ্রোফাইল এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্ত চলাকালীনই এর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই জন এবং বিহারের বক্সার এলাকা থেকে এক পেশাদার শার্প শ্যুটারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
রবিবার প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁর মধ্যমগ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি নিহতের শোকস্তব্ধ মা হাসিরানি রথের সঙ্গে দেখা করেন এবং আশ্বাস দিয়ে বলেন, চন্দ্রনাথের হত্যাকারীরা পার পাবে না, প্রত্যেকে কঠোর শাস্তি পাবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হাসিরানি দেবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবং সিবিআই তদন্তের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি নিশ্চিত যে তাঁর ছেলে ন্যায়বিচার পাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি