
আসানসোল, ১৮ মে (হি.স.) : আসানসোলের রেলপাড় এলাকার জাহাঙ্গীরী মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ধৃত ২৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। মামলার শুনানির পর ধৃতদের মধ্যে ৭ জনকে পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে ৮ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ডে পাঠানো অভিযুক্তদের নাম— মহম্মদ চাঁদ, মহম্মদ শাহাবুদ্দিন, মহম্মদ মহসিন নাজির, মহম্মদ সলমন, মহম্মদ সাদ্দাম, মহম্মদ নওশাদ এবং আহমেদ রজা। বাকি ১৯ জন অভিযুক্তকে আদালত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, এই পুরো আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই রবিবার রাতে লকআপে এক ধৃতের মৃত্যুর মিথ্যা গুজবকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়ায়। চারিদিকে খবর রটে যায় যে, ধৃতদের মধ্যে মহম্মদ সাদ্দাম নামে এক যুবকের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই রেলপাড় এলাকার কয়েকশো মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে আসানসোল উত্তর থানা ঘেরাও করেন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের আটক পরিজনদের সঙ্গে দেখা করার দাবিতে সোচ্চার হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সমস্ত অভিভাবকদের লকআপে নিয়ে গিয়ে ধৃতদের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করিয়ে দেয়।
পরিজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা নিশ্চিত হন যে, তাঁদের সন্তানরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং লকআপে কারও ওপর কোনও অত্যাচার বা দুর্ব্যবহার করা হয়নি। এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা শাহ আলম খান জানান, শহরে একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিবারের লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে থানায় এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর ধৃতরা সবাই সুস্থ ও সুরক্ষিত আছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কাউন্সিলর এস এম মুস্তফা বলেন, মহম্মদ সাদ্দামকে নিয়ে ছড়ানো ভুয়ো খবরটি গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করেছিল। নিজের নিজের পরিজনদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সাধারণ মানুষ দলে দলে থানায় এসে ভিড় জমান। তবে পুলিশ সবাইকে দেখা করার সুযোগ দেওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে।
সাদ্দামের বাবাও পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আমার কাছে ভুল খবর এসেছিল যে লকআপে আমার একমাত্র ছেলে মারা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে নিজে চোখে ছেলেকে সুস্থ দেখে ভুল ভাঙলে আমি পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই। আসলে গুজবের চক্করেই এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এই ঘটনার পর আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে, যেন কেউ কোনও ধরণের গুজবে কান না দেন। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়া বা মুখে মুখে এ জাতীয় সংবেদনশীল ভুয়ো খবর ছড়াতেও নিষেধ করেছে পুলিশ প্রশাসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি