কোরবানির প্রকাশ্য রক্তারক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করার আরজি তসলিমার
কলকাতা, ১৮ মে (হি. স. ) : “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কোরবানির এই প্রকাশ্য রক্তারক্তির সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।” সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এই কথা লিখলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, “গরু কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নানা বিতর্ক ও বিধিনি
তসলিমা নাসরিন


কলকাতা, ১৮ মে (হি. স. ) : “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কোরবানির এই প্রকাশ্য রক্তারক্তির সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।” সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এই কথা লিখলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তিনি লিখেছেন, “গরু কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নানা বিতর্ক ও বিধিনিষেধের জেরে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হিন্দুদের মধ্যে যারা বহুদিন ধরে গরুর ব্যবসা করেন—গরু পুষে, খাইয়ে দাইয়ে বড় করে, কোরবানির আগে বিক্রি করেন—তাঁদের অনেককে ভীষণ ক্ষুব্ধ দেখা গেল। কারণ কোরবানি বন্ধ হলে তাঁদের জীবিকাও বন্ধ হয়।

একজন মুসলমানকে বলতে শুনলাম, 'গোহত্যা পুরোপুরি বন্ধ হোক, গোমাংস রফতানি বন্ধ হোক, সর্বত্র গোশালা খোলা হোক গরুর যত্নের জন্য। এ মুসলমানদের জন্যও ভাল। তাদের আর সন্দেহ করা হবে না।' তিনি কথাগুলো ক্ষোভ থেকে বললেন, নাকি সত্যিই গরুর প্রতি মমতা থেকে—ঠিক বুঝতে পারিনি।

তবে মানুষ মাংস খেতে চাইলে বাজার থেকে মাংস কিনে আনবে। কিন্তু নিজে কসাই না হয়েও হাতে বিশাল ছুরি নিয়ে পশুর গলা কাটবে, আর শিশুসহ অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখবে—এ কোনও সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না।

শুধু গরু নয়, যেখানে-সেখানে ব্যক্তিগতভাবে ছাগল, ভেড়া বা অন্য কোনও গবাদিপশু জবাই করাও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট স্লটার হাউজে বেদনানাশক পদ্ধতিতে স্টানিং করে লাইভস্টক জবাই করা অনেক বেশি মানবিক। অন্তত প্রকাশ্য নিষ্ঠুরতার উল্লাস থেকে সমাজকে দূরে রাখা দরকার।

হয়তো একদিন মানুষ 3D প্রিন্টারে তৈরি মাংস খাবে—স্বাদ থাকবে, পুষ্টি থাকবে, কিন্তু থাকবে না রক্ত, কসাইখানা, হত্যা। সভ্যতা সম্ভবত সেদিকেই এগোচ্ছে।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande