
কলকাতা, ১৮ মে (হি.স.): কলকাতার কসবা এলাকার কুখ্যাত অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে সোমবার রাতে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক জালিয়াতি এবং তোলাবাজির অভিযোগে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই পদক্ষেপ করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক ও গুরুতর অভিযোগে লাগাতার সংবাদ শিরোনামে ছিল সে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিল সোনা পাপ্পু। সেখানে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় শেষমেশ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় হওয়া ব্যাপক হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও বিশ্বজিৎ পোদ্দারের নাম জড়িয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, ওই তাণ্ডবের নেপথ্যে সোনা পাপ্পুরই হাত ছিল এবং তার অনুগামীরাই এলাকায় উপদ্রব সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও দীর্ঘদিন ধরে অধরাই ছিল সোনা পাপ্পু। এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে সে দাবি করেছিল, কোনও ধরণের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে তার কোনও যোগসূত্র নেই।
পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তে নেমে ইডি আচমকাই কসবার ওই ডনের আবাসন ও ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালায়। একই সঙ্গে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও হানা দেন আধিকারিকরা। সেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক সম্পত্তির নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ইডি সূত্রের দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ, ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমেই এই বেআইনি অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল। পরে পিস্তলটি গড়িয়াহাট থানায় জমা দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, বেআইনিভাবে চাপ সৃষ্টি এবং অস্ত্র আইন লঙ্ঘন সহ একাধিক এফআইআর রয়েছে। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই কোমর বেঁধে তদন্তে নামে ইডি।
এই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। এই একই তদন্তের সূত্র ধরে গত মাসে ফর্ন রোড স্থিত কলকাতা পুলিশের তত্কালীন ডেপুটি কমিশনার (ডিপিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। পরে তাঁকে নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি