বেলপাহাড়িতে 'জন ভাগিদারী অভিযান'-এর সূচনা, পিছিয়ে পড়া শবর জনজাতির উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ প্রশাসনের
ঝাড়গ্রাম, ১৮ মে (হি.স.): কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘জন ভাগিদারী অভিযান’-এর জেলা স্তরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লকের বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলে। বিশেষভাবে দুর্বল উপজাতি গোষ্ঠী -র সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সোমবার চাকডোবা স্কুল ম
বেলপাহাড়িতে 'জন ভাগিদারী অভিযান'-এর সূচনা, পিছিয়ে পড়া শবর জনজাতির উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ প্রশাসনের


ঝাড়গ্রাম, ১৮ মে (হি.স.): কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘জন ভাগিদারী অভিযান’-এর জেলা স্তরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লকের বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলে। বিশেষভাবে দুর্বল উপজাতি গোষ্ঠী -র সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সোমবার চাকডোবা স্কুল মাঠে এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় আদিম শবর সম্প্রদায়ের মানুষদের। প্রশাসনের দাবি, সমাজের মূল স্রোত থেকে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সমস্ত সরকারি পরিষেবা সহজে পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ।

বেলপাহাড়ি এলাকার মাটির সঙ্গে শবর সম্প্রদায়ের একাধিক দুঃখজনক ও সংবেদনশীল ঘটনার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। অতীতে এই ব্লকেরই আমলাশোলে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা যেমন দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল, তেমনই কয়েক মাস আগেও উপযুক্ত সেতুর অভাবে এক অসুস্থ শবর ব্যক্তিকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে এই অবহেলিত এলাকার মাটিতেই এমন সরকারি কর্মসূচির আয়োজনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে মোট ২১৪টি শবর গ্রাম রয়েছে, যেখানে প্রায় ২২ হাজারেরও বেশি শবর মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে বেলপাহাড়ি ও বিনপুর— এই দুই ব্লকেই রয়েছে ৫৮টি শবর অধ্যুষিত গ্রাম। ১৮ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত জেলাব্যাপী এই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের আওতায় প্রতিটি শবর গ্রামে বৈঠক বা গ্রামসভার আয়োজন করা হবে। সেখানে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই তাঁদের গ্রামের রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, রেশন সহ বিভিন্ন সমস্যার তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। পরবর্তীতে সেইসব আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি গ্রামগুলিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার (বিশেষত অ্যানিমিয়া ও অন্যান্য ব্যাধি নির্ণয়ের জন্য) ব্যবস্থাও করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০০ জন শবর সম্প্রদায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বামুনডিহা ছাত্র সমিতির উদ্যোগে “এল নতুন দিন” নামে একটি শিক্ষামূলক নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, যার মাধ্যমে ‘জন ভাগিদারী অভিযান’-এর উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মাড়ান্ডী, ঝাড়্গ্রাম বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দত্ত, মহকুমাশাসক অনিন্দিতা চৌধুরী সহ জেলা ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। কেন্দ্রীয় এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের প্রশংসা করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মাড়ান্ডী বলেন, এই উদ্যোগ বিশেষভাবে দুর্বল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই মঞ্চে শাসক ও বিরোধী পক্ষের উপস্থিতিতে এমন সৌজন্যমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর জানান, এই নিবিড় অভিযানের মাধ্যমে জেলার একেবারে প্রত্যন্ত প্রান্তের মানুষের কাছে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande