
আরামবাগ, ১৮ মে (হি.স.): কামারপুকুরের অদূরে সাতবেড়িয়ায় গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী 'চন্দ্রামণি দেবী ইকো ট্যুরিজম পার্ক'-এর পরিকাঠামো ও আয়-ব্যয় নিয়ে দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল।
ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের গর্ভধারিণী মা চন্দ্রামণি দেবীর নামাঙ্কিত এই পার্কটি একসময় পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের অন্যতম বিনোদনের ঠিকানা থাকলেও, বর্তমানে তা তোলাবাজি ও অসামাজিক কাজের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পার্ক পরিদর্শনে যান গোঘাটের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার। সেখানে তাঁকে সামনে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্কের কর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই পার্ককে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের দাদাগিরি ও তোলাবাজি চলছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই সাধারণ মানুষকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। অভিযোগের তির কামারপুকুরের এক প্রভাবশালী বাহুবলীর দিকে। স্থানীয়দের দাবি, পার্কের সমস্ত বেআইনি কার্যকলাপ ওই ব্যক্তির নির্দেশেই চলত। আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন পার্কের কেয়ারটেকার। তাঁর অভিযোগ, পার্কের আয় থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি এই পার্কের আয়ের লক্ষ লক্ষ টাকা কার পকেটে গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
এখানেই শেষ নয়, পার্কে থাকা একাধিক যাত্রীনিবাস, পিকনিক স্পট এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান বুকিংয়ের ভাড়ার টাকাও সরাসরি ওই প্রভাবশালীর ঘরে পৌঁছে যেত বলে অভিযোগ। সরকারি সম্পত্তিকে কার্যত ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করা হয়েছিল। বিধায়কের সামনে পার্কের কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এখানে পরিবেশ একেবারে বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল, পার্কটিকে অসামাজিক কাজের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন—
মা চন্দ্রামণি দেবীর পবিত্র নামের সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সরকারি সম্পত্তিকে লুটেপুটে খাওয়ার এই ঘৃণ্য দুর্নীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কেয়ারটেকার ও স্থানীয় মানুষ যেভাবে পঞ্চায়েত প্রধান ও এক বাহুবলীর বিরুদ্ধে রসিদ ছাড়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন, তার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমি এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলব। সরকারি টাকার হিসেব এবং পার্কের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যা যা করণীয়, বিধায়ক হিসেবে আমি সব করব।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যবাহী এই পার্কের দুর্নীতির কাহিনি সামনে আসতেই গোটা কামারপুকুর এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA