
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১৮ মে (হি.স.) : পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে একের পর এক ত্রুটি, নম্বরের গরমিল এবং অনলাইন পরিষেবার দুর্বলতায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে বিক্ষোভে সামিল হল শতাধিক ছাত্রছাত্রী। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তোলা হয়।
সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রীরা কলেজ চত্বরে জড়ো হয়ে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডঃ শ্যামল দাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবিভিপি-র নেতা প্রমতোষ পাল, স্নেহা সূত্রধর, অনুপম মজুমদার ও অঙ্কন পাল।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বহু ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরও তাঁদের ফলাফলে ভুলভাবে ‘ব্যাকলগ’ দেখানো হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে নম্বর কম দেখানো হয়েছে বা সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ফলাফল সংশোধনের আবেদন জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এবিভিপি নেতা অঙ্কন পাল বলেন, “এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে ছেলেখেলা। ফলাফলের এই বিভ্রাটের কারণে অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারছেন না, আবার চাকরির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অভিযোগ জানানোর পরও কোনও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিন এবিভিপি-র পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে ভুল ফলাফল সংশোধন, ব্যাকলগ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা জানান, শুধু আশ্বাস নয়, তাঁরা দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধান চান। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এই ঘটনার জেরে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামহলের মতে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ