
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১৮ মে (হি.স.) : একই রাতে গোমতী জেলার আরকে পুর থানার অধীন চারটি পৃথক এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় গোটা উদয়পুর মহকুমাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং গরু চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, আর কে পুর থানার রাত্রিকালীন টহলদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে টেপানিয়া হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকার কালী মন্দিরে হানা দেয় একদল দুষ্কৃতিকারী। অভিযোগ, একটি মারুতি ভ্যান নিয়ে এসে তাঁরা মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
একই রাতে উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানেও দুষ্কৃতিকারীরা প্রণামী বাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে চম্পট দেয়। পরপর দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ছনবন এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আশীষ দাসের বাড়িতে গভীর রাতে চোরের দল হানা দেয়। বাড়ির সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
শুধু তাই নয়, আশীষ দাসের বাড়িতে চুরির পর পাশের বাড়ি মান্নান মিয়ার বাড়িতেও হানা দেয় একই দল। সেখান থেকে দুটি গরু চুরি করে একটি বোলেরো গাড়িতে তুলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে আরকে পুর থানার পুলিশ পৃথক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একটি বলেরো গাড়িতে গরু দুটি তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে গাড়ির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
একই রাতে চারটি চুরির ঘটনায় গোটা উদয়পুর মহকুমায় নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে এলাকায় চুরি, গরু পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার কিংবা চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাতের টহলদারি আরও জোরদার করতে হবে এবং দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে চুরি হওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও গবাদিপশু উদ্ধার করতে হবে। ঘটনাগুলির দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ