
কলকাতা, ১৯ মে (হি. স.) : জাল নথির মাধ্যমে জমি দখল এবং সেই জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে সোমবার রাতে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এক মাসে চারবার নোটিস দেওয়ার পরেও হাজিরা না দেওয়ায় তৈরি হওয়া টানাপড়েনের পর, সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ স্ত্রীকে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। সেখানে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার তাঁকে কলকাতার বিশেষ ইডি আদালতে হাজির করিয়ে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, সিন্ডিকেট বাহিনী নিয়ে নিরীহ ও অসহায় ব্যক্তিদের জমি-সম্পত্তি জোর করে দখল করতেন সোনা পাপ্পু। কেউ এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাঁকে উল্টে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো।
জমি দখলের এই মামলায় আগেই কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় কামদার গ্রেফতার হয়েছেন। ইডির দাবি, শান্তনু, সোনা পাপ্পু এবং জয়—এই তিন জন মিলে একটি বড়সড় চক্র বা নেক্সাস গড়ে তুলেছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে ইডি অভিযোগ করে, প্রতিটি জমি দখলের ক্ষেত্রেই মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে। সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার পর সেখানে অবৈধ নির্মাণের কাজ করতেন জয় কামদার। এছাড়া তল্লাশি চলাকালীন সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল মেলার পাশাপাশি তাঁর আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেছে ইডি। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে গোলপার্কের কাছে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে বোমাবাজি ও গুলি চলার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
অন্যদিকে, ইডির এই সমস্ত অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সোনা পাপ্পুর আইনজীবী। আদালতে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তিনি জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের কোনো অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি। তাছাড়া তাঁর মক্কেল একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে ইডির বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বেআইনি আর্থিক লেনদেনেরও কোনো অকাট্য প্রমাণ তদন্তকারীরা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন সোনা পাপ্পুর আইনজীবী। আদালতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর্ব শেষ হলেও বিচারক এখনও এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি