
নয়াদিল্লি, ১৯ মে (হি.স.) : পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ করা এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে কেন্দ্র সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে শিল্পপতি গৌতম আদানি-কে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
খাড়গে তাঁর পোস্টে লেখেন, “দাম বাড়ার চারদিনের মধ্যেই মোদী সরকার ফের পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিল। ভূমিকা তৈরি করে, সঞ্চয়ের উপদেশ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপানোর কাজ চলছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “সাধারণ মানুষের লুট আর অদানি-কে আমেরিকার থেকে ছাড়— এটাই মোদীজির ‘কম্প্রোমাইজড মডেল’।” তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও দূরদর্শিতা নেই এবং সংকটের সময় সরকার নির্বাচনী রাজনীতিতেই ব্যস্ত ছিল।
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে আমেরিকার অনুমতির মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়াতে হয়েছে ভারতকে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে কটাক্ষ করে খড়গে লেখেন, “বিশ্বগুরু হওয়ার দাবি করা মোদীজি আমেরিকার কাছে হাত-পা জোড় করে রুশ তেল কেনার অনুমতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এর মাধ্যমে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের আত্মসম্মানে আঘাত লাগছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সরকার বলছে রুশ তেল কেনার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে, তাহলে সাধারণ মানুষের উপর পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে কেন?”
পোস্টে খড়গে আরও লেখেন, বিজেপির মধ্যে দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। তাঁর কথায়, “সংকটের সময় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল সরকার, তারপর চটকদার কথা বলে লুটের পরিকল্পনা করেছে এবং এর মাঝেই নিজেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও রেহাই পাইয়ে দিয়েছে।”
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “শুধু বিদেশে স্পনসর করা পিআর করলেই বিশ্বগুরু হওয়া যায় না। জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হয়।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হওয়ায় ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচও বেড়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার সেই বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য