
আগরতলা, ১৯ মে (হি.স.) : পুনর্বাসন প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মঞ্জুরসহ তিন দফা দাবির ভিত্তিতে আগামী ২৯ মে-র পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের সংগঠন ত্রিপুরা গেরিলা রিটারনিজ ডিমান্ড কমিটি (টিজিআরডিসি)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী এবং জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী -কে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে টিজিআরডিসি-র আহ্বায়ক জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকার তাঁদের দাবিগুলি পূরণে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই সংগঠন কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলন শুরুর আগের দিন জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে সংগঠন সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত রাখে। কিন্তু তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলির বাস্তবায়নে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।
সংগঠনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— বামফ্রন্ট সরকারের ঘোষিত বোর্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্যাকেজ (বিআরপি) স্কিমের অধীনে বকেয়া ২৩ কোটি টাকা দ্রুত মঞ্জুর করা, মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশনের আওতায় রাবার বাগানের বেড়া নির্মাণের বকেয়া অর্থ প্রদান এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিশ্রুত আর্থিক সুবিধা অবিলম্বে কার্যকর করা।
অমৃত রিয়াং বলেন, এসব দাবি নিয়ে একাধিকবার জনজাতি কল্যাণ দফতরের কাছে স্মারকলিপি ও আবেদন জমা দেওয়া হলেও সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই সরকারকে ২৯ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে দাবিগুলি পূরণ না হলে ৩০ মে থেকে রাজ্যজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হবে বড়মুড়া-হাতাইকতর এলাকা, যেখানে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে। পাশাপাশি সংলগ্ন ভৃঘুদাসপাড়ায় রেলপথ অবরোধের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আন্দোলন সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ