
দুর্গাপুর, ১৯ মে ( হি. স.): মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘ চার বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসক বসিয়ে চলছিল দুর্গাপুর নগরনিগম। অবশেষে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে ভেঙে দেওয়া হল দুর্গাপুর নগরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর বোর্ড।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দুর্গাপুর নগরনিগমের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নামবলাম এস। একই সঙ্গে নগর প্রশাসনের নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে দুর্গাপুর নগরনিগমে শেষ নির্বাচন হয়েছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় নির্বাচন ছাড়াই শহরের প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছিল। তৃণমূল আমলে প্রশাসক মণ্ডলী গঠন করে নগরনিগম চালানো হলেও পানীয় জল, রাস্তা, নাগরিক পরিষেবা সহ একাধিক বিষয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল বলে অভিযোগ।
বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন না হওয়া এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার প্রশাসকমণ্ডলী ভেঙে নতুন ব্যবস্থা চালু হল।
এদিকে, মঙ্গলবার আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)-এর দফতরে জরুরি বৈঠকে বসেন দুর্গাপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই ও চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী। বৈঠকে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনা করা হয়।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিটি সেন্টারের সম্প্রসারিত সড়কের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের অনুমতি নিয়েও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে শহরের পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং খুব শীঘ্রই নির্বাচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা