খেলাধুলা ও শিক্ষাই যুব সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যায় : মন্ত্রী বিকাশ
আগরতলা, ১৯ মে (হি.স.) : খেলাধুলা ও শিক্ষাই যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং আলোর পথে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। তাই রাজ্য সরকার এই দুই ক্ষেত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে। মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় দশরথ দেব স্মৃতিভবনে আয়োজিত এক সংবর
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা


আগরতলা, ১৯ মে (হি.স.) : খেলাধুলা ও শিক্ষাই যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং আলোর পথে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। তাই রাজ্য সরকার এই দুই ক্ষেত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে। মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় দশরথ দেব স্মৃতিভবনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।

ট্রাইবাল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ইনস্টিটিউট (টিআরসিআই)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনকারী ৯৭ জন জনজাতি ক্রীড়াবিদ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা তিনজন শিল্পীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নির্বাচিত খেলোয়ার ও শিল্পীদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান মন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৪৯ জন ক্রীড়াবিদকে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য ৪৭ জন ক্রীড়াবিদকে সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন শিল্পীকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনার অংশ হিসেবে জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জনকারী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪০ হাজার টাকা, আন্তর্জাতিক স্তরে কৃতিত্বের জন্য প্রত্যেককে ৬০ হাজার টাকা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের ১৭ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, জনজাতি যুব সমাজকে আরও বেশি করে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে এবং তাঁদের প্রতিভাকে উৎসাহিত করতেই রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি যুব সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ইতিবাচক জীবনধারার দিকে নিয়ে যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, নেশার করাল গ্রাস থেকে জনজাতি যুবসমাজকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকার খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সুফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। চলতি বছরে রাজ্যের একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়গুলির ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। উত্তীর্ণদের অধিকাংশই প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেছে।

তিনি জানান, গত ৩৫ বছরে রাজ্যে মাত্র চারটি একলব্য বিদ্যালয় ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১২টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠন-পাঠন চলছে এবং খুব শীঘ্রই আরও ছয়টি বিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্য শুরু হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে রাজ্যের জনজাতি যুবসমাজ শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত হচ্ছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন স্বপ্ন দেখছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনজাতি সংগঠনের প্রতিনিধিরা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বহু ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধিত ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande