
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১৯ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়ার পশ্চিম হাওয়াইবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। বারবার অভিযোগ, ফোন ও আবেদন সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সোমবার রাতে ক্ষুব্ধ জনগণ সরাসরি তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের ডিভিশন-১ কার্যালয়ে গিয়ে জনৈক কর্মীকে অফিস কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এলাকাবাসীর সাফ কথা, “বিদ্যুৎ না এলে তালা খুলবে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম হাওয়াইবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দিনের পর দিন লোডশেডিং ও আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানীয় জলের সরবরাহ, পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন নানা কাজ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ নিগমের জরুরি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বাধ্য হয়ে সোমবার রাতে এলাকার বহু মানুষ বিদ্যুৎ নিগমের কর্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, অফিসে কোনও কর্মী উপস্থিত নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর নিগমের কর্মী দেবাশীষ আচার্য অফিসে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনগণ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয়দের দাবি, দেবাশীষ আচার্য ওই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কোনও কার্যকর মেরামতির কাজ না করে কর্মীরা অন্যত্র সময় কাটান বলেও অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বহুবার সমস্যার কথা জানানো হলেও বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির মনোভাবই বেশি চোখে পড়েছে।
ঘটনার খবর বিদ্যুৎ নিগমের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে জানানো হলেও তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরও তিনি অফিসে এসে জনগণের সঙ্গে কথা বলা বা সমস্যার সমাধানে কোনও উদ্যোগ নেননি।
এই ঘটনায় ক্ষোভ আরও চরমে পৌঁছায়। অবশেষে ক্ষুব্ধ জনগণ নিগমের কর্মী দেবাশীষ আচার্যকে অফিস কক্ষে রেখেই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তালা না খোলার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ