
কুমারঘাট, ১৯ মে (হি.স.) : উন্নয়নের নানা দাবির মাঝেও ঊনকোটি জেলার পাবিয়াছড়া বিধানসভাধীন দুধপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাঁচা রাস্তা, জল-কাদায় ভরা পথ, ভাঙাচোরা ইটের রাস্তা, অপর্যাপ্ত পানীয় জল, অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং এমজিএনরেগা প্রকল্পে কাজ ও মজুরি না পাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চার দফা দাবিতে দুধপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ডেপুটেশন জমা দেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের বেশ কিছু রাস্তায় আজ পর্যন্ত একটি ইটও বসানো হয়নি। বর্ষাকালে এসব রাস্তা কাদায় পরিণত হয়ে কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ইটের রাস্তা থাকলেও সংস্কারের অভাবে ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। একটি ছড়ার উপর সেতু না থাকায় এখনও বাসের সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীদের। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে ঝোলায় চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
আন্দোলনকারী ঝুলন সরকার জানান, রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং এমজিএনরেগা প্রকল্পের সমস্যা সমাধানের দাবিতেই তাঁরা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, বহুবার প্রধান ও সদস্যদের জানানো হলেও সমস্যা সমাধানের বদলে মিলেছে শুধু আশ্বাস। এমজিএনরেগার কাজ নিয়মিত হয় না, আর যেসব কাজ হয়েছে তার মজুরিও কয়েক মাস ধরে বকেয়া রয়েছে।
জয়ন্তী মল্লিক নামে জনৈকা প্রতিবাদী মহিলা বলেন, স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই বেহাল রাস্তা। গত ২৫ বছরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিবর্তনের আশায় মানুষ সরকার বদল করলেও গ্রামের মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান এখনও অধরাই থেকে গেছে।
আরেক আন্দোলনকারী গৌড় নমঃ জানান, গ্রামে এমজিএনরেগার কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। বুলডোজার দিয়ে কাজ করিয়ে শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ থেকে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে রাস্তা অবরোধ এবং ব্লক অফিস ঘেরাওয়ের মতো বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
গ্রামবাসীদের ডেপুটেশন গ্রহণ করেন পঞ্চায়েতের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিশাত দাস। তিনি জানান, দাবিগুলি লিখিতভাবে গ্রহণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন পঞ্চায়েত অফিসার দীপঙ্কর চক্রবর্তী। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার রাস্তার অবস্থা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ