
কলকাতা, ২ মে (হি. স.) : ভোট গণনার প্রাক্কালে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আদালতের স্পষ্ট রায়ের পরেও প্রশাসনের ভূমিকা বর্তমানে গভীর প্রশ্নের মুখে।প্রথমেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনায় অংশগ্রহণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অবস্থানকে সামনে আনেন অধীর। তিনি বলেন, “ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের অংশগ্রহণে কোনও বাধা নেই। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও একই মত দিয়েছিল। আদালতের পর আদালতে ধাক্কা খেয়ে শাসক দলের অবস্থান এখন ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।”
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা প্রসঙ্গে অধীর বলেন, কমিশন সূত্রে খবর যে আগামীকাল সেখানে পুনর্নির্বাচন না-ও হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, গণনার পরেও পুনর্নির্বাচনের মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমিশনের হাতে রয়েছে। এই অনিশ্চয়তা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিন দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠককেও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর প্রশ্ন, “গণনা কেন্দ্রে কর্মীদের আলাদা করে কী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে? এই নির্দেশের আড়ালে কি কোনও বিশেষ বার্তা লুকিয়ে রয়েছে?”
কালীঘাট থানার অপসারিত ওসির বিতর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস প্রসঙ্গ টেনে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হন তিনি। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ওসির ছবি পোস্ট করা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের একটি স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি এবং সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে? এতে ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে।”
ভোট গণনার ঠিক আগের দিন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই গুচ্ছ অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হলো, তা বলাই বাহুল্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত