সংস্কারের পূর্বে বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবন পরিদর্শনে বিধায়ক নীলাদ্রি দানা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা
বাঁকুড়া, ২০ মে (হি.স.): বাঁকুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রবীন্দ্র ভবন’ উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এই বেহাল দশা দূর করার জন্য জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিল্পীরা দাবি জানিয়ে আসছিলে
পরিদর্শনে বিধায়ক নীলাদ্রি দানা


বাঁকুড়া, ২০ মে (হি.স.): বাঁকুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রবীন্দ্র ভবন’ উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এই বেহাল দশা দূর করার জন্য জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিল্পীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ, ইতিপূর্বে এই ভবনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই ছাদের ফলস সিলিং খসে পড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি, প্রেক্ষাগৃহের সব আলো ঠিকমতো জ্বলে না এবং শব্দ প্রক্ষেপণ বা সাউন্ড সিস্টেমের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি এই ঐতিহ্যবাহী ভবনের খোলনলচে বদলে ফেলতে এবং আধুনিকীকরণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৭৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শীঘ্রই এই সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই আজ, বুধবার ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সশরীরে পরিদর্শনে আসেন ছাতনার বিধায়ক নীলাদ্রি দানা, জেলা প্রশাসন এবং গণপূর্ত দফতরের পদস্থ আধিকারিকরা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক উদয় নারায়ণ জানা বলেন, “জেলার সংস্কৃতি চেতনার মূল প্রকাশ ঘটে এই রবীন্দ্র ভবন থেকে। কাজেই সাংস্কৃতিক জগতের মানুষদের কাছে এই ভবনের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবনের সামগ্রিক সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের কারণেই কাজ শুরু করা যায়নি, তবে শীঘ্রই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আলো এবং সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে।”

রবীন্দ্র ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক নীলাদ্রি দানা। তিনি বলেন, “ভবনের বর্তমান হাল দেখে আমি রীতিমতো স্তম্ভিত। ছাদের ফলস সিলিং যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে অনুষ্ঠান চলাকালীন তা মাথায় খসে পড়লে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারত। আলো ঠিকমতো জ্বলছে না, বাথরুমগুলির অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি যে, আগের বার সংস্কারের এত অল্পদিনের মধ্যেই কীভাবে একটি ভবনের এই দশা হতে পারে!”

বিগত সরকারের আমলকে নিশানা করে বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন, “আসলে পূর্বতন সরকারের সময়ে কিছু পেটোয়া লোক এই রবীন্দ্র ভবনকে সামনে রেখে স্রেফ লুটপাট করেছে। তবে এবার আর তা হবে না। সাধারণ মানুষ ও শিল্পীরা যাতে এখানে এসে সুষ্ঠু পরিষেবা পান, তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande