
বাঁকুড়া, ২০ মে (হি.স.): বাঁকুড়ার ছাতনা এলাকায় অবৈধ বালি খাদান বন্ধ করতে এবার নিজেই সরাসরি ময়দানে নামলেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে ছাতনা বিধানসভার অন্তর্গত আড়রাগ্রাম পঞ্চায়েতের কাকি গ্রামে জেসিবি ও বুলডোজার নিয়ে এক অতর্কিত অভিযান চালান তিনি। বিধায়কের উপস্থিতিতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ বালি খাদানের অফিস ঘর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কাকি গ্রাম সংলগ্ন নদী থেকে বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। প্রশাসন, পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের একাংশের প্রত্যক্ষ মদতেই এই অবৈধ কারবার রমরমিয়ে চলছিল বলে গ্রামবাসীদের দাবি। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইতিপূর্বে এই বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করলেই তাঁদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো, এমনকি পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় কাকি গ্রামের ওই খাদান এলাকায় পৌঁছে পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি বাঁকুড়ার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। ওই খাদানের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ঝাঁটিপাহাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর এই বেআইনি ব্যবসা চলল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। নদীর ওপর অস্থায়ী মাটির রাস্তা তৈরি করে অবাধে বালি লুঠ করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। অভিযান চলাকালীন বিধায়ক ঘটনাস্থলে বিএলআরও-কে ডেকে পাঠালেও তিনি অনেক দেরিতে পৌঁছন বলে অভিযোগ।
বিধায়কের এই অনড় মনোভাব ও নির্দেশে রাতেই প্রশাসন সক্রিয় হতে বাধ্য হয় এবং শুরু হয় ‘অপারেশন বুলডোজার’। বুলডোজার চালিয়ে বালি খাদানের বেআইনি অফিস ঘরটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ওই অফিস থেকে একটি ল্যাপটপ, নগদ টাকা, কয়েকটি মোটরবাইক, জেসিবি এবং বালি তোলার বেশ কিছু সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের কিছু স্থানীয় নেতা এবং পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশেই এই কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালি ব্যবসা চলছিল।
বুধবার সকালেও ফের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “আগামী ২১ মে পুরো বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিস্তারিতভাবে জানাব।” বিধায়কের দাবি, ছাতনা বিধানসভা এলাকায় এখনও অন্তত তিনটি এই ধরনের অবৈধ বালি খাদান সচল রয়েছে, যেগুলির বিরুদ্ধেও দ্রুত একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা—কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করে তাঁদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিধায়কের এই সাহসী ও ঝটিতি অভিযানের পর গ্রামবাসীরা তাঁকে “দাবাং বিধায়ক” বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য প্রান্তেও নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে এই ধরনের বেআইনি বালি খাদানের বিরুদ্ধে একই কায়দায় কড়া অভিযান চালানোর দাবি তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট