
হাওড়া, ২০ মে (হি.স.): প্রাক-বর্ষার মরশুম কড়া নাড়ছে। তার আগেই প্রতি বছরের মতো এবারও জল জমার আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে হাওড়া শহরে। এই পরিস্থিতিতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা সহ একাধিক নাগরিক সমস্যা নিয়ে বুধবার হাওড়া পুরসভার পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন শিবপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
এদিন পুরসভা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রুদ্রনীল তাঁর শিবপুর বিধানসভা এলাকার জলনিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে বিগত সরকারগুলিকে তীব্র নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, “বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে হাওড়া শহরে কার্যত স্থায়ী কোনও উন্নয়নের কাজই হয়নি। ফলে এই তিলোত্তমা সদৃশ শহরের নাগরিক সমস্যাগুলি দিন দিন আরও জটিল ও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।”
রুদ্রনীল ঘোষ আরও জানান, জলনিকাশি থেকে শুরু করে পুর এলাকার বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মসূচিও জারি হয়েছে। বিধায়কের দাবি, “হাওড়ার এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই জট কাটানোর লক্ষ্যে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বড় নির্দেশ দিতে পারেন।”
হাওড়া পুরসভার বর্তমান প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “এই মুহূর্তে পুরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উপযুক্ত কর্মীর অভাব এবং বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প রূপায়ণে চরম অর্থের সঙ্কট।” তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, নতুন সরকারের তরফে এই সমস্যাগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যদিও একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমাদের হাতে কোনও জাদুদণ্ড নেই যে রাতারাতি ম্যাজিকের মতো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে আমরা ধাপে ধাপে নিকাশি থেকে শুরু করে সমস্ত নাগরিক দুর্ভোগ মেটানোর কাজ চালাব।”
প্রসঙ্গগত, শিবপুর বিধানসভা এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে একটি বিশেষ ‘ওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের কথাও এদিন ঘোষণা করেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি জানান, এই কমিটিতে স্থানীয় স্তরের গৃহবধূ, কর্মজীবী মহিলা এবং সমাজের শিক্ষিত অরাজনৈতিক নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথভিত্তিক নাগরিক সমস্যাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তা প্রশাসনের সহায়তায় সমাধানে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিনের বৈঠকে পুর আধিকারিকদের কাছ থেকে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে হাওড়া পুরসভার বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন রুদ্রনীল এবং সেগুলি নিজের ডায়েরিতে নোটও করে নেন। সবশেষে তিনি বলেন, “হাওড়ার হারানো পুরনো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই আমি পুরসভার আধিকারিকদের থেকে পাওয়া তথ্য ও সমস্যার কথা আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে তুলে ধরব।”
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত