
গুয়াহাটি, ২০ মে (হি.স.) : অসমে চলতি আর্থিক বছরে জ্বালানি ব্যয় ২০ শতাংশ এবং রাজস্ব ও প্রশাসনিক ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে একাধিক কঠোর মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থ দফতরের কমিশনার-সচিব জয়ন্ত নারলিকার।
অর্থ দফতরের কমিশনার-সচিব জয়ন্ত নারলিকারের জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংকট এবং অধিক আর্থিক সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রশাসনিক কার্যকারিতা বজায় রেখে অ-উন্নয়নমূলক ব্যয় কমানো এবং অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলির জন্য অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করা।
এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো হবে। তবে বজায় থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রয়োজন-সাপেক্ষে পূর্ব-অনুমতি নিয়ে জরুরি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) এবং আসাম পুলিশের আন্তঃজেলা চলাচলও সীমিত করা হবে।
এছাড়া আগামী ছয় মাসের জন্য নতুন সরকারি গাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুরনো এবং অচল সরকারি গাড়ি দ্রুত বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিভাগগুলিকে যানবাহনের ব্যবহার কমানো, কারপুলিং চালু করা এবং বৈদ্যুতিক যান ও গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে সরকারি বিভাগগুলিকে গাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যানগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রণোদনা এবং চার্জিং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। গুয়াহাটি পুর নিগম কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সবুজ গণপরিবহণ ব্যবস্থায় রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য পুরসভাগুলিকেও জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী এবং সরকারি আধিকারিকদের সরকারি ও ব্যক্তিগত বিদেশ সফর আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থ, চিকিৎসা, শিক্ষা বা নিকট আত্মীয় সংক্রান্ত জরুরি কারণে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে সফরের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
সরকারি বিভাগগুলিকে বড় আকারের সরাসরি বৈঠক এড়িয়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সরকারি নৈশভোজ, আপ্যায়ন ব্যয়, সরকারি অর্থে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অপ্রয়োজনীয় সফর বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে বিভিন্ন বিভাগকে শক্তি নিরীক্ষা (এনার্জি অডিট) পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌর সংস্থাগুলিকে অপ্রয়োজনীয় রাস্তার আলো কমিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য বিভাগগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার ফি, লাইসেন্স ফি, ইজারা ভাড়া এবং পরিষেবা চার্জ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সরকারি ভবন ও কমিউনিটি হল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত আয় করার কথাও বলা হয়েছে।
অসম সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর উদ্যোগের ইঙ্গিত বহনকারী এই ব্যবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে অর্থ দফতরের কমিশনার-সচিব জয়ন্ত নারলিকারের জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস