
নয়াদিল্লি, ২০ মে (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বুধবার ইতালির রোমে রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা -র সদর দফতরে সংস্থার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ 'এগ্রিকোলা মেডল' প্রদান করা হলো। ভারত তথা বৈশ্বিক স্তরে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, পরিবেশবান্ধব ও ধারাবাহিক কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এফএও -র মহানিরীক্ষক ডক্টর কিউ ডংইউ-এর হাত থেকে এই সম্মানজনক পদক গ্রহণ করেন। এই আন্তর্জাতিক সম্মান পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তা দেশের অন্নদাতা তথা ভারতীয় কৃষক এবং কৃষি বিজ্ঞানী সমাজকে উৎসর্গ করেছেন, যাঁরা দেশ তথা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সম্মান মানব কল্যাণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারেরই এক অনন্য স্বীকৃতি। ভারতের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় কৃষির কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি হলো 'ধরিত্রী মা' এবং ভারতীয় মানুষের মধ্যে এক পবিত্র আত্মিক বন্ধন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, কৃষিক্ষেত্রে ভারতের বৈজ্ঞানিক এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি দীর্ঘমেয়াদী, জলবায়ু-সহনশীল এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি 'প্রতি ফোঁটা জলে বেশি ফসল' -এর মতো আধুনিক পদ্ধতি, ক্ষুদ্র-সেচ এবং সুনির্দিষ্ট কৃষিকার্যের প্রতি সরকারের মিশন-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেন, যা ভারতের বর্তমান কৃষি নীতিকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
প্রযুক্তি-ভিত্তিক আধুনিক কৃষির বিশদ বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, এআই -ভিত্তিক পরামর্শ ব্যবস্থা, ড্রোন, রিমোট-সেন্সিং প্রযুক্তি এবং সেন্সর-ভিত্তিক যন্ত্রপাতি আজ ভারতের প্রান্তিক কৃষকদেরও ভালো ফলন এবং উচ্চ কৃষি আয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বিগত ১০ বছরে ভারত প্রায় ৩,००০টি জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে। ভারতের এই বিজ্ঞান-চালিত কৃষি ব্যবস্থা আজ বিশেষ করে 'গ্লোবাল সাউথ' (উন্নয়নশীল দেশসমূহ)-এর খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
এফএও-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ভারতের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, ধারাবাহিক কৃষি এবং একটি ক্ষুধা-মুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সংস্থার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সৌভাগ্য ভারতের হয়েছে। একই সঙ্গে 'আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ' উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পুষ্টিকর খাদ্য বিকল্পকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ভারতের পাশে থাকার জন্য তিনি এফএও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০ বছরের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানের এটিই প্রথম এফএও সদর দফতর সফর, যা এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক মাত্রা পেল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি