প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে হেফাজতে নিল পুলিশ
কলকাতা, ২০ মে (হি. স.) : বিধাননগর পুরনিগমের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে মঙ্গলবার গভীর রাতে হেফাজতে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তিনি বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী। বুধবার পুলিশ
অদিতি মুন্সীর স্বামী


কলকাতা, ২০ মে (হি. স.) : বিধাননগর পুরনিগমের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে মঙ্গলবার গভীর রাতে হেফাজতে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তিনি বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী। বুধবার পুলিশ আধিকারিকদের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দেবরাজ চক্রবর্তীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে নাকি কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তা এখনও পুলিশের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। সূত্র মারফত জানা গেছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার সঙ্গে জড়িত একটি পুরনো মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক কর্মী প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, তাঁকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সেই পুরনো মামলার প্রেক্ষিতেই এদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

রাজনৈতিক মহলে দেবরাজ চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই একাধিক বিজেপি নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ দেবরাজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর আসন থেকে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সী। ভোট গণনাকেন্দ্রের বাইরে সে সময় তাঁকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হতে দেখা গিয়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তিনি বা তাঁর স্বামী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চাননি। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন বেআইনি ও অপরাধমূলক অভিযোগের তদন্তে পুলিশি তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় লাগাতার তল্লাশি ও আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande