
ঝাড়গ্রাম, ২০ মে (হি.স.): জঙ্গলমহলে ফের হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বুধবার সকালে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের লোধাশুলি রেঞ্জের ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন পূর্ণাপানির জঙ্গলে একটি হাতির আক্রমণে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বনদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম নীতিশ মাহাতো (১৯)। তিনি ঝাড়গ্রামের আসনবানি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বনদফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে ৩৫ থেকে ৪০টি হাতির একটি দল গোপীবল্লভপুর রেঞ্জের দিক থেকে লোধাশুলি রেঞ্জ এলাকায় প্রবেশ করে। জঙ্গলে হাতির দল আসার খবর চাউর হতেই আশপাশের গ্রামের মানুষের সঙ্গে কৌতুহলবশত হাতি দেখতে জঙ্গলে যান নীতিশ মাহাতো। সেই সময় দলছুট একটি হাতি আচমকা তাঁদের তাড়া করে। বাকিরা ছুটে পালাতে সক্ষম হলেও নীতিশকে হাতিটি শুঁড় দিয়ে ধরে আছাড় মারে। এর ফলে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন।
ঘটনার পরপরই বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে হাতির দলটিকে তাড়া করলে সেগুলি কিছুটা দূরে চলে যায়। এরপর বনকর্মীদের সহায়তায় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় নীতিশকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের সিসিইউ -তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত যুবকের বাবা মানবেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, “আমি ব্যবসার কাজে বাইরে বেরিয়েছিলাম। পরে গ্রামের ছেলেরা ফোন করে আমাকে হাসপাতালে আসতে বলে। এখানে এসে জানতে পারি ছেলেকে হাতিতে মেরেছে।”
বনদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত যুবকের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, তবে শেষরক্ষা হয়নি। বন আধিকারিকদের মতে, মানুষ যতক্ষণ না নিজেরা সচেতন হবেন, ততক্ষণ এই হাতি-মানুষের সংঘাত পুরোপুরি রোখা সম্ভব নয়। এলাকায় হাতির দল প্রবেশ করলেই পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে মাইকিং করে প্রচার চালানো হয়। হাতি দেখতে জঙ্গলে যাওয়া, কিংবা কাঠ ও পাতা সংগ্রহ করতে জঙ্গলে প্রবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেকে তা অমান্য করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গলমহলের জঙ্গল লাগুয়া গ্রামগুলিতে সারা বছর ধরেই হাতির তাণ্ডব এবং তার জেরে হতাহতের ঘটনা লেগেই রয়েছে। বনদফতরের উচিত এই বিষয়ে আরও স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো