মাত্র ১,০০০ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা পাবে ত্রিপুরার ১.৫ লক্ষ পরিবার
আগরতলা, ২০ মে (হি.স.) : পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে বড়সড় উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের যেসব পরিবার মাসে ৫০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য মাত্র ১,০০০ টাকার বিনিময়ে সৌরবিদ্যুৎ (রুফ
হ্যান্ডবুক প্রকাশ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রতন লাল নাথ


আগরতলা, ২০ মে (হি.স.) : পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে বড়সড় উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের যেসব পরিবার মাসে ৫০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য মাত্র ১,০০০ টাকার বিনিময়ে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে প্রায় ১.৫ লক্ষ পরিবারকে।

বুধবার আগরতলার গীতাঞ্জলি গেস্ট হাউসে “রুফটপ সোলার পিভি সিস্টেম হ্যান্ডবুক” প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার অধীনে ত্রিপুরায় সৌরবিদ্যুতের প্রসার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩,৫০০ পরিবার নিজেদের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ ভর্তুকির ফলে সাধারণ মানুষ খুব কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারছেন। বর্তমানে ১ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমে ৩৩ হাজার টাকা, ২ কিলোওয়াটে ৬৬ হাজার টাকা এবং ৩ কিলোওয়াটে সর্বোচ্চ ৮৫,৮০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ পরিবার মাসে ৫০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১.৫ লক্ষ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিবারগুলির কাছ থেকে মাত্র ১,০০০ টাকা নিয়ে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অতিরিক্ত ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আগামী মাস থেকেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে না, সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, রুফটপ সোলার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এর ফলে বিদ্যুতের বিল কমবে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিক্রি করে অর্থও উপার্জন করতে পারবেন।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড-এর সহযোগিতায় ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের আধিকারিক, প্রকৌশলী ও অনুমোদিত বিক্রেতাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় দুটি তথ্যবহুল পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ গ্রাহকরাও সহজ ভাষায় সৌরবিদ্যুতের প্রযুক্তি, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারেন।

মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, আগে মানুষ শুধু বিদ্যুতের বিল দিতেন। এখন সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই প্রকল্প রাজ্যের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীলতা কমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande