স্পেশাল এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন জমা দিতে ধর্মনগর থানায় উপচে পড়া ভিড়
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : বছরের পর বছর চাকরির আশায় দিন গুনেছেন। অসংখ্য পরীক্ষায় বসেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। সংসারের চাপ, সমাজের কটাক্ষ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় অনেক যুবক-যুবতীর চোখের ঘুম উধাও হয়ে
বেকারদের ভিড়


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : বছরের পর বছর চাকরির আশায় দিন গুনেছেন। অসংখ্য পরীক্ষায় বসেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। সংসারের চাপ, সমাজের কটাক্ষ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় অনেক যুবক-যুবতীর চোখের ঘুম উধাও হয়ে গেছে। সেই হতাশার মধ্যেই নতুন করে আশার আলো জ্বালাল পুলিশের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া। আর সেই আশার টানেই বুধবার সকাল থেকে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর থানায় ভিড় জমালেন শত শত বেকার যুবক-যুবতী।

কারও হাতে ফাইল, কারও কাঁধে ব্যাগ, কারও চোখেমুখে উদ্বেগ, আবার কারও মুখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটুখানি স্বস্তির হাসি। সকাল থেকেই ধর্মনগর থানার সামনে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন চাকরিপ্রার্থীরা। থানার কর্মীরা নিয়ম মেনে আবেদনপত্র ও নথি গ্রহণের কাজ সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর রাজ্য সরকার ৬,৩৬১টি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই সময় হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। অনেকেই পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, এবার হয়তো ঘুরে দাঁড়ানো যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় অসংখ্য যুবক-যুবতীর স্বপ্ন।

অনেকের পরিবারে একমাত্র উপার্জনের আশার কেন্দ্র ছিলেন এই চাকরিপ্রার্থীরা। কেউ বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চান, কেউ বোনের পড়াশোনার খরচ জোগাতে চান, কেউ আবার বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চান। কিন্তু চাকরি না থাকায় সেই স্বপ্নগুলো বারবার থমকে গেছে। অর্থাভাব, হতাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আজ রাজ্যের বহু শিক্ষিত বেকারের নিত্যসঙ্গী।

সম্প্রতি সরকার পুনরায় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন গ্রহণের ঘোষণা করতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ধর্মনগর থানার সামনে আজকের ভিড় যেন শুধু নথিপত্র জমা দেওয়ার দৃশ্য নয়, বরং হাজারো স্বপ্ন, সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার আকুতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আবেদন জমা দিতে আসা এক চাকরিপ্রার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বছরের পর বছর পড়াশোনা করে ঘরে বসে আছি। বাবা দিনমজুর। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। এই চাকরিটা হলে শুধু আমার নয়, পুরো পরিবারের জীবন বদলে যাবে।”

আরেক যুবতীর কথায়, “অনেক আশা নিয়ে আবেদন করেছি। জানি না শেষ পর্যন্ত চাকরি হবে কি না, কিন্তু অন্তত আবার একটা সুযোগ এসেছে—এইটুকুই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।”

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সচেতন মহলের একাংশের প্রশ্ন, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই কি ফের সক্রিয় করা হয়েছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া? ভোটের আগে বেকার যুবকদের আশ্বাস দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কৌশল কি না, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের কাজ চলছে। রাজনৈতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনও সম্পর্ক নেই।

রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের কাছে এই নিয়োগ শুধু একটি চাকরির সুযোগ নয়; এটি আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াই, পরিবারকে স্বস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং অন্ধকারের মধ্যে আলোর সন্ধান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande