
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার টিলাবাজার এলাকার একটি গ্যাস এজেন্সির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কালোবাজারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের তৎপরতায় কুবঝার এলাকায় দুটি ই-রিকশাসহ ১৪টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার আটক করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিলাবাজার গ্যাস এজেন্সির পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের সময়মতো গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনের হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন বাসিন্দা কুবঝার এলাকায় দুটি ই-রিকশায় করে বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার সন্দেহজনকভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা গাড়ি দুটি আটক করেন। পরে দেখা যায়, ই-রিকশা দুটিতে মোট ১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ডিসিএম, খাদ্য দফতরের আধিকারিক এবং কৈলাসহর থানার পুলিশ। প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং আটক সিলিন্ডারগুলির নথিপত্র যাচাই করেন। এরপর উদ্ধার হওয়া সমস্ত গ্যাস সিলিন্ডার ও দুটি ই-রিকশা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক সিলিন্ডারগুলি কীভাবে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং গ্যাস এজেন্সির কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ