
আগরতলা, ২০ মে (হি.স.) : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচিতে নতুন সংযোজন হিসেবে বুধবার থেকে জেলা ভিত্তিক অনলাইন পর্বের সূচনা হল। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ধলাই জেলার ৩৫ জন নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩০ জনই ছিলেন জনজাতি সম্প্রদায়ের।
এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা থেকে অনেক মানুষের পক্ষে আগরতলায় এসে সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সেই সমস্যা দূর করতে জেলা ভিত্তিক অনলাইন ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশের ফলেই আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল এই বিশেষ ব্যবস্থা।
অনলাইন আলোচনায় ধলাই জেলার বাসিন্দারা চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রতিটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনার পর সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ধলাই জেলার জেলাশাসক, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) এবং অন্যান্য জেলা স্তরের প্রশাসনিক কর্তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। আগরতলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, স্বাস্থ্য দফতর সহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তাঁর সামনে তুলে ধরতে পেরে ধলাই জেলার অংশগ্রহণকারী সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এতদিন দেখা যেত ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’-তে মূলত আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকার মানুষই বেশি অংশ নিতেন। দূরবর্তী জেলা ও মহকুমা থেকে খুব কম মানুষ আসতে পারতেন। নতুন জেলা ভিত্তিক অনলাইন ব্যবস্থার ফলে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও সহজেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে একটি “নতুন দিগন্ত” বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, এদিন আগরতলা থেকে দু’জন ব্যক্তি স্বশরীরে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পাশাপাশি অনলাইনে ধলাই জেলার ৩৫ জনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ