
কদমতলা (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা বাজার সংলগ্ন গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা দুর্ব্যবহার, অসহযোগিতা এবং পরিষেবাগত গাফিলতির অভিযোগে বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ গ্রাহকেরা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং ন্যূনতম ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ ব্যাঙ্কে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাঙ্ক শাখায় প্রতিদিনই নানা পরিষেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মী গ্রাহকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। পাসবুক আপডেট, টাকা উত্তোলন, ভাতা গ্রহণ কিংবা অন্যান্য সাধারণ পরিষেবার ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বুধবার সকাল থেকে ব্যাঙ্কে পরিষেবা নিতে আসা বহু গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও কোনও সুরাহা মেলেনি। বয়স্ক, মহিলা ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও একই ধরনের হয়রানির শিকার হন। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা করুণা নাথ ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা নাথ। তাঁরা জানান, কল্পনা নাথের প্রতিবন্ধী ভাতা তুলতে প্রতি মাসেই ব্যাঙ্কে এসে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনও বলা হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না, কখনও আবার একাধিক কাউন্টারে ঘুরতে হয়। এমনকি পাসবুক আপডেট করতেও কর্মীরা অনীহা প্রকাশ করেন। বুধবারও ভাতা তুলতে এসে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
একই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা প্রণব শিকদারসহ আরও অনেকে। তাঁদের দাবি, ব্যাঙ্কের নিজস্ব পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কাজের জন্য গ্রাহকদের সিএসসি (কমন সার্ভিস সেন্টার)-তে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ব্যাঙ্ক শাখায় পৌঁছালে তাঁদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় ম্যানেজার অনুপস্থিত ছিলেন এবং জনৈকা মহিলা কর্মী দায়িত্বে ছিলেন। তিনি গ্রাহকদের অভিযোগ শুনতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং জানান, “ম্যানেজার এলে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।”
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ যদি ন্যূনতম ব্যাঙ্কিং পরিষেবাই না পান, তাহলে এই শাখার অস্তিত্বের অর্থ কী? তাঁদের দাবি, অন্য কোনও ব্যাঙ্কে এমন আচরণের সম্মুখীন হতে হয় না। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামার পাশাপাশি ব্যাঙ্ক কর্মীদের তালাবন্দি করে রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অবিলম্বে নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ গ্রাহকেরা সম্মানজনক ও স্বচ্ছ পরিষেবা পেতে পারেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ