কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের বেহাল অংশে সংস্কার শুরু, স্বস্তিতে এলাকাবাসী
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা বিধানসভার বহুচর্চিত কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের থানা সংলগ্ন বাংলাবাজার এলাকার বেহাল অংশে শুরু হলো সংস্কারের কাজ। বুধবার সকালে ধর্ম
রাস্তা সংস্কার


চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২০ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবশেষে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা বিধানসভার বহুচর্চিত কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কের থানা সংলগ্ন বাংলাবাজার এলাকার বেহাল অংশে শুরু হলো সংস্কারের কাজ। বুধবার সকালে ধর্মনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর উদ্যোগে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাথর ফেলে আপাতত যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু হয়। বহুদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার জল জমে রাস্তার প্রায় কুড়ি থেকে ত্রিশ হাত অংশ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হতো। অনেক সময় ছোট যানবাহন আটকে যেত এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হতো।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমস্যার কথা বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কদমতলা-কুর্তি বিধানসভার বিধায়ক ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও উদ্যোগের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করলে বিজেপি-র কদমতলা মণ্ডল সভাপতি বিমল পুরকায়স্থ এবং উত্তর জেলা বিজেপি-র সহ-সভাপতি করুণা নাথ বিষয়টি ধর্মনগরের বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর নজরে আনেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি দ্রুত উত্তর জেলার পূর্ত দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট এসডিওদের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার অস্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করেন।

বুধবার সকালে সংস্কার কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিধায়ক জহর চক্রবর্তী। অন্য বিধানসভার জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাঁর এই সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের স্বার্থে এই ধরনের উদ্যোগই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির পরিচয় বহন করে।

এ প্রসঙ্গে বিধায়ক জহর চক্রবর্তী বলেন, কদমতলা-রানিবাড়ি সড়কটি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা-র আওতায় নির্মিত হওয়ায় পূর্ত দফতর সরাসরি স্থায়ী সংস্কার করতে পারছে না। নিয়ম অনুযায়ী, রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থাকেই প্রথম পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরবর্তীতে রাস্তা পূর্ত দফতরের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হলে স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিটি জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হলো দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করা। কদমতলা-কুর্তি বিধানসভার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দ্রুত স্থায়ীভাবে দূর হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনার পর জহর চক্রবর্তীর উদ্যোগে রাস্তার অন্তত একটি অংশ সংস্কার হওয়ায় স্বস্তির মুখ দেখেছেন এলাকাবাসী। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা— দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে কদমতলা-রানিবাড়ি সড়ককে সম্পূর্ণরূপে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande