দেশজুড়ে কেমিস্টদের ধর্মঘটে ত্রিপুরায় ওষুধের দোকান বন্ধ
আগরতলা, ২০ মে (হি.স.) : অনলাইনে বেআইনি ওষুধ বিক্রি, কর্পোরেট সংস্থার অতিরিক্ত ছাড় এবং বাজারে নকল ওষুধের রমরমার প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী ধর্মঘট পালন করলেন কেমিস্ট ও ড্রাগিস্টরা। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগি
কেমিস্টদের ধর্মঘট


আগরতলা, ২০ মে (হি.স.) : অনলাইনে বেআইনি ওষুধ বিক্রি, কর্পোরেট সংস্থার অতিরিক্ত ছাড় এবং বাজারে নকল ওষুধের রমরমার প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী ধর্মঘট পালন করলেন কেমিস্ট ও ড্রাগিস্টরা। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (এআইওসিডি)-এর ডাকে এই ধর্মঘটে সামিল হয় অল ত্রিপুরা কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনও। এর ফলে ত্রিপুরার প্রায় সব জেলা ও মহকুমায় অধিকাংশ ওষুধের দোকান বন্ধ থাকে। জরুরি পরিষেবার জন্য হাসপাতালের সামনে হাতে গোনা কয়েকটি ফার্মেসি খোলা থাকলেও সেখানে সব ধরনের ওষুধ না পাওয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমায় মঙ্গলবার রাত থেকেই অধিকাংশ ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। কুমারঘাট ও ফটিকরায় হাসপাতালের সামনে জরুরি পরিষেবার জন্য একটি করে ফার্মেসি খোলা রাখা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করা সব ওষুধ সেখানে না মেলায় বুধবার সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ফটিকরায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পরিতোষ মালাকার জানান, বাজারের সব ফার্মেসি বন্ধ থাকায় একটি মাত্র দোকান থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কুমারঘাট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সুখেন্দু শব্দকর ও বাবুল মালাকার। তাঁদের অভিযোগ, একটিমাত্র ফার্মেসিতে সব ধরনের ওষুধ না পাওয়ায় চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে সমস্যা হচ্ছে।

কুমারঘাট হাসপাতালের সামনে খোলা থাকা ফার্মেসির মালিক পীযূষ পাল বলেন, জরুরি পরিষেবার কথা মাথায় রেখে তাঁদের দোকান খোলা রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরি রোগীদের জন্য ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিছুটা সমস্যা হলেও জীবনদায়ী ওষুধের ক্ষেত্রে পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।

খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমাতেও ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল হয়। মহকুমার প্রায় সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হয়। রোগীদের স্বার্থে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল এবং কল্যাণপুর এলাকায় একটি করে ফার্মেসি খোলা রাখা হয়। সংগঠনের তেলিয়ামুড়া মহকুমা কমিটির সম্পাদক রঙ্গল দেব জানান, অনলাইন ওষুধ বিক্রির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ওষুধ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বহুবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই ধর্মঘটে নামতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমাতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়ে। শান্তিরবাজার, বাইখোরা, মনুবাজার ও জোলাইবাড়ি এলাকার সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকান দিনভর বন্ধ থাকে। যদিও সংগঠনের দাবি, জরুরি ও জীবনদায়ী ওষুধের পরিষেবা সচল রাখা হয়। এদিন সংগঠনের প্রতিনিধিরা শান্তিরবাজার মহকুমা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন।

সংগঠনের শান্তিরবাজার মহকুমা কমিটির সভাপতি প্রিয়লাল ভৌমিক ও সম্পাদক সুশেন বৈদ্য যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ওষুধ সাধারণ পণ্য নয়। যথাযথ যাচাই ছাড়া অনলাইনে ওষুধ বিক্রি রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস আইনকে উপেক্ষা করে এই ব্যবসা চলছে। সরকার দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র কেমিস্ট ও কর্মচারী কর্মসংকটের মুখে পড়বেন।”

সংগঠনের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অনলাইনে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা, কর্পোরেট সংস্থার ‘প্রেডেটরি ডিসকাউন্ট’ রোধ করা এবং বাজারে ভেজাল ও নকল ওষুধের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো। সংগঠনের দাবি, ই-ফার্মেসির দৌরাত্ম্যে ছোট ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

এই একদিনের ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande