
কলকাতা, ২১ মে (হি.স.): দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য এখনই স্বস্তির কোনও খবর নেই। আন্দামান সাগরে যে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা আবহবিদরা শুনিয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বাতাস (বর্ষা) ঢুকে পড়ার ফলে নতুন করে কোনও নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে, দিন কয়েকের টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গ যে কিছুটা স্বস্তি পাবে, সেই আশা আপাতত নেই। আগামী কয়েক দিন আর্দ্রতাজনিত প্রচণ্ড অস্বস্তি কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে বজায় থাকবে।
বুধবার বিকেলের দিকে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইলেও, তা সাময়িক স্বস্তি ছাড়া স্থায়ী কোনও সমাধান দিতে পারেনি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো জোরালো কালবৈশাখী অথবা বেশ কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি কবে আসবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনও উত্তর আপাতত আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কাছে নেই। বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং আকাশে মেঘের আস্তরণ—এই দুইয়ের জোড়া ফলায় জেরবার দক্ষিণবঙ্গ। মেঘের স্তর ভূপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণে বাধা দিচ্ছে এবং জলীয় বাষ্প শরীরের ঘাম বাতাসে মিশতে দিচ্ছে না। তার ওপর বাতাসের অতি ধীর গতি (বুধবার দুপুরে ঘণ্টায় মাত্র ৪ কিমি) পরিস্থিতিকে আরও দমবন্ধকর করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, তীব্র গরম আর ঘর্মাক্ত এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এখন একমাত্র প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিই শেষ ভরসা দক্ষিণবঙ্গের।
উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই আগামী তিনদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবারও উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার ও সোমবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি