অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর আগে উপভোক্তাদের যাচাইকরণে তৎপর রাজ্য সরকার
কলকাতা, ২২ মে ( হি. স.) : অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করার আগে উপভোক্তাদের তালিকা যাচাইকরণ এবং ডাটাবেস সংশোধনের প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্প রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে। তার আগেই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূ
অন্নপূর্ণা যোজনা


কলকাতা, ২২ মে ( হি. স.) : অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করার আগে উপভোক্তাদের তালিকা যাচাইকরণ এবং ডাটাবেস সংশোধনের প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্প রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে। তার আগেই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিকাশ এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের তরফে জারি করা একটি সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো উপভোক্তাদের তালিকা থেকে অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের সঠিক তথ্য সুনিশ্চিত করা।

গত ১৯ মে রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে এবার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হচ্ছে। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ১ জুন থেকে এই যোজনা কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বর্তমান সমস্ত উপভোক্তাকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এর মধ্যে যাঁরা মারা গেছেন, স্থানান্তরিত হয়েছেন, অনুপস্থিত রয়েছেন কিংবা ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) এবং অন্যান্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত হওয়া ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের নামও ছেঁটে ফেলা হবে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) তরফে জারি করা একটি পৃথক আদেশে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী, গ্রাম রোজগার সহায়ক, নির্মাণ সহায়ক এবং বুথ স্তরের আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে সেই তালিকা প্রতিদিন জমা করতে বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যাতে উপভোক্তাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পোর্টালে সঠিকভাবে নথিভুক্ত থাকে। এর ফলে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হবে। আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই ডেটাবেস সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি জেলার দৈনিক প্রগতি রিপোর্ট প্রতিদিন সন্ধ্যায় মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

প্রকল্পের যোগ্যতা ও নতুন আবেদন প্রক্রিয়া

অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্থায়ী সরকারি চাকরিহীন, কোনও ধরনের পেনশনভোগী নন এবং আয়করদাতার আওতার বাইরে হতে হবে।

রাজ্য সরকার আরও ঘোষণা করেছে যে, এই প্রকল্পের নতুন আবেদনকারীদের জন্য আগামী ১ জুন থেকে একটি অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালু করা হবে। নতুন আবেদনপত্রগুলি যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন অথবা কলকাতা পুরসভার মনোনীত আধিকারিকরা। জেলা স্তরে জেলাশাসকরা এই আবেদন মঞ্জুর করার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে পুর-কমিশনার এই চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande