
কলকাতা, ২২ মে ( হি. স.) : গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া একাধিক এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে আদালতে এই আগাম সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিলীপ মণ্ডলের আইনজীবীর তরফে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়ে শুক্রবারই এর শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এই মামলাটি মূলত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যার সত্যতা অবশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিওতে বিধায়ককে বলতে শোনা যায় যে বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি অনেক সংযম দেখিয়েছেন এবং পরিবেশ শান্ত রেখেছেন, কিন্তু এবার আর তা হবে না। ভিডিওটিতে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী ও সমর্থকদের প্রকাশ্যেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। এরই জেরে গত ১৪ মে পুলিশ ও র্যাফ তাঁর পৈলানের বাসভবনে একটি বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালায়, যা ঘিরে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, পৈলানের ওই বাসভবনে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ আধিকারিকরা একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা ও অত্যন্ত দামি কাঠের আসবাবপত্রের সন্ধান পান। এমনকি ওই চত্বরে একটি গুহা-সদৃশ কাঠামোরও উপস্থিতি ছিল বলে সূত্রের দাবি। তবে এই অভিযানের পর থেকেই দিলীপ মণ্ডল পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে গত ১৭ মে রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এই লাগাতার পুলিশি তৎপরতা ও তদন্তের মাঝেই এবার গ্রেফতারি এড়াতে আইনি রক্ষাকবচ পেতে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূল বিধায়ক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি