(লিড) ভারত-সাইপ্রাস সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত, পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী
নয়াদিল্লি, ২২ মে (হি.স.) : ভারত ও সাইপ্রাসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। শুক্রবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডেস-এর মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কক
ভারত-সাইপ্রাস সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত, পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী


নয়াদিল্লি, ২২ মে (হি.স.) : ভারত ও সাইপ্রাসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। শুক্রবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডেস-এর মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে সই হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সাইপ্রাসের বিনিয়োগ ভারতে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসে পৌঁছেছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার সকালে তিনি রাষ্ট্রপিতা মহাত্মা গান্ধী-র সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে বসেন তিনি। দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, আর্থিক সংযোগ, সামুদ্রিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা, সংস্কৃতি, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “সাইপ্রাস ভারতের শীর্ষ ১০ বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে অন্যতম। গত এক দশকে ভারতে সাইপ্রাসের বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আমরা এই বিনিয়োগ আবারও দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত ও সাইপ্রাসের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হওয়ার ফলে এই সম্পর্ক নতুন গতি ও নতুন উচ্চতা পাবে।” তিনি জানান, দুই দেশ মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি চুক্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাইপ্রাসের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত ও সাইপ্রাসের মধ্যে মোট ১৪টি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ কার্যকারী গোষ্ঠী গঠনে সম্মত হয়েছে। সাইপ্রাস ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভে যোগ দেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারত সাইপ্রাসকে অত্যাধুনিক স্বদেশি মোবাইল হাসপাতাল ‘ভীষ্ম কিউব’ উপহার দেবে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপও তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশ ১৮ মে ‘ইন্ডিয়া-সাইপ্রাস স্পেস ডে’ পালন করেছে। পাশাপাশি মুম্বইয়ে সাইপ্রাস বাণিজ্য কেন্দ্রও চালু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ক এখন নতুন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছে। এই সময়ে সাইপ্রাস ভারত ও ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ প্রবেশদ্বার হিসেবে উঠে আসছে।”

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডেস বলেন, “সাইপ্রাস ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ভূমিকাকে সমর্থন করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের যথাযথ স্থান পাওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, “সাইপ্রাস ভারত ও ইউরোপের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।”

তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক এখন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, সামুদ্রিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাস্তব ফল দিচ্ছে এবং এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande