কলকাতা পুরসভায় রাজনৈতিক সংঘাত, তৃণমূলের বৈঠককে ‘অবৈধ’ বলে তোপ বিজেপির
কলকাতা, ২২ মে ( হি. স.) : কলকাতা পুরসভায় শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরদের বৈঠককে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এই বৈঠককে “সম্পূর্ণ অবৈধ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কলকাতা পুরসভা কোনও তৃণমূল কংগ্রেসের
সজল ঘোষ


কলকাতা, ২২ মে ( হি. স.) : কলকাতা পুরসভায় শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরদের বৈঠককে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এই বৈঠককে “সম্পূর্ণ অবৈধ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কলকাতা পুরসভা কোনও তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় বা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বৈঠকখানা নয়, যেখানে স্বৈরাচারী উপায়ে যখন-তখন অধিবেশন ডেকে নেওয়া হবে।

আসল বিষয়টি হল, শুক্রবার কলকাতা পুরসভার পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আচমকা মেয়র পারিষদ (এমআইসি) বৈঠক বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে মাসিক অধিবেশনও স্থগিত করে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা এদিন পুর সদর দফতরে পৌঁছন। তবে অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। অভিযোগ, পুর-চেয়ারপার্সন মালা রায় অনুরোধ করা সত্ত্বেও ঘরের তালা খোলা হয়নি। এরপর মালা রায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিম অধিবেশন কক্ষের বাইরে বারান্দাতেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক সারেন।

এই বৈঠককে ঘিরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপি কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তথাকথিত অধিবেশনে বিরোধী দলের কোনও কাউন্সিলরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এভাবে কোনও বৈঠক ডাকা যায় না এবং মেয়রকে এর জবাব দিতেই হবে।

সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা বিধানসভায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ তোলেন, তাঁরাই আজ পুরসভায় সমস্ত নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই বৈঠকের শুরুতে বা শেষে জাতীয় সঙ্গীত কিংবা রাজ্য সঙ্গীত—কোনওটিই গাওয়া হয়নি।

তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মেয়র এবং চেয়ারপার্সন খোদ এই অবৈধ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদি এর সদুত্তর না মেলা, তবে আগামীদিনে আমরা পুরসভার অধিবেশন চলতে দেব না। এর আগেও বহুবার অধিবেশন বাতিল করা হয়েছে; কার ইশারায় তা করা হয়েছিল? ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচি বা বিধানসভায় যাওয়ার অজুহাতে বারবার বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে।

সজল ঘোষ এমনকি এও বলেন যে, প্রয়োজন পড়লে কলকাতা পুরসভা ভেঙে দেওয়ার দাবিও তোলা হবে। তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই কর্মকাণ্ডকে “রাজনৈতিক নাটক” বলে আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন— যদি পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, তবে কি মেয়র তাঁর কুর্সি বাঁচাতে পারবেন?

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande